নিজস্ব প্রতিনিধি, পশ্চিম মেদিনীপুর :

একটা সময় ছিল যখন গ্রাম পঞ্চায়েতের উদ্যোগে সাব মার্সিবল পাম্প বসিয়ে পানীয়জল সরবরাহ হতো গ্রামের বাসিন্দাদের। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরেই ওই সাব মার্সিবল পাম্প অকেজো হয়ে পড়ায় পানীয় জলের সংকটে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার চন্দ্রকোনার নিচু রাজগঞ্জ গ্রামের গোটা একটি তপশিলী পাড়া। পর্যাপ্ত পানীয়জল না পেয়ে চরম ভোগান্তির শিকার বাসিন্দারা।অকেজো পাম্প সারিয়ে পুনরায় পানীয়জল সরবরাহের জন্য প্রশাসনে জানিয়েও কোনো সাড়া না মেলায় চরম ক্ষোভে ফুঁসছে বাসিন্দারা।
একমাস ধরে এমনই পানীয়জলের চরম সংকটে ভুগছে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার চন্দ্রকোনা ২ নম্বর ব্লকের বান্দিপুর ২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের নিচু রাজগঞ্জ গ্রামের দোলুই পাড়া।৪০-৫০ টি পরিবার সমেত শতাধিক মানুষের বসবাস এই দোলুই পাড়ায়।বাসিন্দাদের অভিযোগ,একমাত্র ধরে তারা চরম পানীয়জলের সংকটে ভুগছেন।কেনো এই পানীয়জলের সমস্যা?জানাগেছে,২০১৭-১৮ অর্থবর্ষে ৬৬,৩১৬,০০ টাকা ব্যায়ে বান্দিপুর ২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের উদ্যোগে নিচু রাজগঞ্জ দোলুই পাড়ায় নলকূপে সাব মার্সিবল পাম্প স্থাপন ও পাইপলাইনের মাধ্যমে একাধিক ট্যাপ বসিয়ে পানীয়জল সরবরাহের ব্যবস্থা করা হয়েছিল।একমাত্র আগে হঠাৎ এই পাম্পে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয় এবং অকেজো হয়ে পড়ে।আর তারপর থেকেই গ্রামে পানীয়জলের সরবরাহ বন্ধ হয়ে গিয়ে চরম জল সংকট দেখা দেয়।পাম্প সারানোর জন্য গ্রামবাসীদের পক্ষ থেকে একাধিক বার গ্রাম পঞ্চায়েত থেকে ব্লক প্রশাসন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের জানানো হলেও কোনো সুরাহা হয়নি বলে দাবি বাসিন্দাদের।বাসিন্দাদের পানীয়জলের চাহিদা পূরনে গত ৮ দিন ধরে গাড়িতে করে পানীয়জল সরবরাহ করছে PHE দপ্তর।সুদুর চন্দ্রকোনা থেকে ট্যাঙ্কি ভর্তি জল গাড়িতে করে নিয়ে গিয়ে দু’বেলা পানীয়জল সরবরাহ করা হচ্ছে বলে ব্লক প্রশাসনের তরফে জানানো হয়।এবিষয়ে চন্দ্রকোনা ২ নম্বর ব্লকের বিডিও উৎপল পাইক জানান,”বিষয়টি আমি শুনেছি বাসিন্দারা একটা দরখাস্ত করেছিলেন।গ্রাম পঞ্চায়েতকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল,গ্রাম পঞ্চায়েতের তরফে একাধিক বার ওটাকে সারানোর ব্যবস্থা করেছিল।যতদিন না সমস্যার সমাধান হচ্ছে আপাতত আমি PHE দপ্তরের সাথে যোগাযোগ করে অস্থায়ী ভাবে জলের ব্যবস্থা করে দিয়েছি।
ব্লক প্রশাসনের তরফে দ্রুত সারানোর ব্যবস্থা করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
তবে অকেজো হয়ে পড়ে থাকা পাম্প সারাই হবে? কিংবা নতুন পাম্প বসিয়ে জল সংকট মেটানোর উদ্যোগ নেবে প্রশাসন! আপাতত সেদিকেই তাকিয়ে বাসিন্দারা।

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *