নিজস্ব প্রতিনিধি, মেদনীপুর: শহরের প্রখ্যাত স্ত্রী ও প্রসূতি রোগ বিশেষজ্ঞ ডাঃ কাঞ্চন ধাড়ার বিরুদ্ধে ভুল চিকিৎসার কারণে মৃত্যু হয়েছে এমন অভিযোগে সরব হয়েছিলেন রোগীর পরিবার। গত বৃহস্পতিবার এই ঘটনার প্রতিবাদে মৃত রোগীর কন্যা কেয়া মাইতি এবং তাঁর স্বামী সহ পরিবার ন্যায্য বিচারের দাবিতে মেদিনীপুর জেলা আদালত চত্বরে প্ল্যাকার্ড হাতে ধর্নায় বসেছিলেন।এ ঘটনায় জেলা জুড়ে শোরগোল পড়ে যায়।
যদিও সেদিন সন্ধ্যায় অভিযুক্ত চিকিৎসকের জেল হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছিল মেদিনীপুর আদালত।বুধবার অবশ্য তিনি ২৪ ঘন্টার জন্য অন্তর্বর্তী জামিনের নির্দেশ পেয়েছিলেন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এই অন্তর্বর্তী জামিন বাতিল করেন বিচারক। তাঁকে আদালত থেকেই গ্রেফতার করে জেলে পাঠানোর নির্দেশ দেন বিচারক। ভুক্তভোগীর পরিবার সূত্রে জানা যায়,মেদিনীপুর শহরের এক বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় দিপালী খামরুই (৫২) নামে এক মহিলার। তাঁর জরায়ু-র অপারেশন বা অস্ত্রপচার করেছিলেন ডঃ কাঞ্চন ধাড়া। অভিযোগ, অস্ত্রপচারের পরই শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে শুরু করে ওই রোগিনীর। শেষমেষ গোটা শরীরে সংক্রমণ ছড়িয়ে গিয়ে বা সেপ্টিসেমিয়া-তে আক্রান্ত হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়। এরপরই, চিকিৎসায় গাফিলতি বা ভুল চিকিৎসার অভিযোগ তুলে পুলিশের দ্বারস্থ হয় মৃতার পরিবার। কোতোয়ালী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন মৃতার স্বামি স্বপন খামরুই।
এরপর ১১ ই জানুয়ারি পর্যন্ত চিকিৎসকের ১৪ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দেন বিচারক। যদিও এ ঘটনায় একপক্ষ চিকিৎসকেরা অভিযুক্ত ডাক্তারের পাশে দাড়িয়েই শুক্রবার জামিনের সাওয়াল তোলেন।এদিন ফের জামিনের আবেদন খারিজ করে দেন বিচারক।শনিবার ৫ হাজার টাকার ব্যক্তিগত বন্ডে জামিন মেলে অভিযুক্ত চিকিৎসকের।এরপর এদিন সন্ধ্যে বেলায় ফের এই ঘটনার নতুন মোড় নেয়। জোর বিতর্কের মাঝেই ফের মেদিনীপুর আদালত এ দ্বারস্থ হলেন ভুল চিকিৎসায় শিকার হওয়া আরেক রোগীনী ও তাঁর পরিবার।
তাঁদের অভিযোগ,গত ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর মাসে শহরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ঝাড়গ্রামের এক গৃহবধূ অলক্তা খামরই এর জরায়ু অপারেশন করতে গিয়ে ভুল অপারেশন করেন ডাক্তার। মহিলার বাপের বাড়ি পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার চন্দ্রকোনা রোড এলাকায়। রোগীর পরিবারের দাবি,জরায়ু র অস্ত্রপচার করতে গিয়ে কোলন কেটে দেন চিকিৎসক কাঞ্চন ধাড়া। ডাক্তারের গাফিলতির কারণে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন রোগিনী। পরে চেন্নাইতে গিয়ে একপ্রকার সুস্থ আছেন।

শনিবার একদিকে ডাক্তারের জামিনের পরই একই অভিযোগে এদিন সন্ধ্যায় আরেক রোগিনী অলক্তা খামরই সহ তাঁর পরিবারের সদস্যরা মেদিনীপুর আদালতে পৌঁছে পুনরায় চিকিৎসক কাঞ্চন ধাড়ার গ্রেফতারির দাবিতে সরব হন পাশাপাশি দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি তুলেছেন তাঁরা।এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফের জেলায় শোরগোল পড়েছে। তবে কি আবার আইনি গেরোয় পড়তে চলেছেন প্রখ্যাত স্ত্রী ও প্রসূতি রোগ বিশেষজ্ঞ ডাঃ কাঞ্চন ধাড়া? এমন নানান প্রশ্ন মানুষজনের মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে। তবে মহামান্য আদালত এই পুনরাবৃত্তি ঘটনায় কি আইনি বিধি দেয় এখন সেদিকেই তাকিয়ে জেলার মানুষ।

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *