নিজস্ব প্রতিনিধি,বর্ধমান: বুধবার বর্ধমানের দুই জেলার একগুচ্ছ প্রকল্পের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এসে শিক্ষক নিয়োগ জট নিয়ে সরব হলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিরোধীদের তোপ দাগলেন তৃণমূল সুপ্রিমো। মুখ্যমুন্ত্রীর কথায়, ‘কয়েক হাজার শিক্ষক নেব। শিক্ষকের পদ আমাদের রেডি আছে। কিন্তু কোর্ট কেসে আটকে রেখে দিয়েছে সিপিএম-বিজেপি। তরুণ ছেলেমেয়েদের চাকরি হচ্ছে না। নাহলে শিক্ষক পদেই ৬০ থেকে ৭০ হাজার চাকরি হত। যদি কোথাও অন্যায় হয়ে থাকে, তা খুঁজে বের করা হোক। কিন্তু অবিলম্বে শূন্যপদে চাকরিতে নিয়োগ করতে দেওয়া হোক।‘ পাশাপাশি মমতা কেন্দ্রের সমালোচনা করে বলেন “কেন্দ্রের বিজেপি সরকার রাজনৈতিকভাবে ঠুটো। ঠুটো জগন্নাথ। ওরা বলে বাংলার সরকার নাকি কাজ করে না। কিন্তু আসল কথা হল পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মতো সমাজসেবা আর কেউ করেনি। কেন্দ্রীয় সরকার বাড়ি বাড়ি জল দিচ্ছে বলে প্রচার করছে। কিন্তু সেই কাজ আসলে রাজ্য সরকার করে। যে জমি দিয়ে পাইপ যায় সেই জমি রাজ্য সরকার টাকা দিয়ে কেনে। কেন্দ্রের বিজেপি সরকার কর এবং জিএসটির নামে রাজ্য থেকেই টাকা তুলে নিয়ে যাচ্ছে।’‌মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘‌৭৫ ভাগ খরচ করে রাজ্য। বাকি টাকা কেন্দ্র দেয়। কিন্তু তার মধ্যেও রাজ্যের টাকা থাকে। এটা অনেকটা মাছের তেলে মাছ ভাজার মতো। এটুকু কাজ করেই প্রচার করে বেড়াচ্ছে বিজেপি সরকার।’‌
সেইসঙ্গে বর্ধমানে মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, যারা দুয়ারে সরকার এবং সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আবেদন করেছিলেন তাদের ৬টি প্রকল্পে ১ ফেব্রুয়ারি থেকে সুবিধা দেওয়া হবে। ১৩ লাখ মহিলা নতুন করে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের সুবিধা পাবেন। তিনি বলেন ৯ লাখ মানুষ বার্ধক্যভাতা পাবেন, ৭ হাজার মানুষ মানবিক ভাতা পাবেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, কন্যাশ্রী প্রকল্পে সংযুক্ত করা হবে আরও ১০ লাখ। অর্থাৎ ৮৫ লাখ থেকে সংখ্যাটা ৯৫ লাখ হতে চলেছে। তিনি বলেন, ‘আমি সেঞ্চুরি দেখতে চাই।’এদিন তিনি বলেন , রাজ্য সরকারের নানা প্রকল্প এবং সরকারি পরিষেবা পেতে গিয়ে প্ররোচনার ফাঁদে পড়তে হচ্ছে জনগণকে বলে অভিযোগ পেয়েছেন বাংলার নেত্রী। তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা–কর্মীদের পকেটে টাকা গুঁজে না দিয়ে পরিষেবা মিলছে না। বরং অনেকেই বঞ্চিত হচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠে এসেছে। এবার সেই রোগের নতুন ওষুধ বাতলে দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পূর্ব বর্ধমানের সরকারি পরিষেবা প্রদান অনুষ্ঠান থেকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘যদি কেউ পয়সা চায়, ধরে দুটো থাপ্পড় দিন। থানায় গিয়ে একটা ডায়েরি করুন।’এছাড়া সকলকে তিনি আশ্বস্ত করেন সরকারি প্রকল্প পেতে অসুবিধা হবে না। কোনও অসুবিধা হলে স্থানীয় নেতৃত্বের সঙ্গে কথা বলতে বলেছেন। আর তাঁরাই সেই কাজ হাসিমুখে করে দেবেন বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী।

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *