আই-প্যাকের বিষয়ে ভয়ঙ্কর তথ্য সামনে আনলেন শুভেন্দু
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: আই-প্যাক (I-PAC) অফিসে তল্লাশি অভিযানকে কেন্দ্র করে নজিরবিহীন সংঘাতের সাক্ষী থাকল রাজ্য রাজনীতি। তল্লাশিতে বাধা এবং গুরুত্বপূর্ণ নথি ও ইলেকট্রনিক ডিভাইস সরিয়ে ফেলার অভিযোগে এবার সরাসরি সিবিআই (CBI) তদন্তের দাবি জানাল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। বৃহস্পতিবারের ঘটনার রেশ ধরে শুক্রবার আদালতের দ্বারস্থ হয় ইডি। তাদের দায়ের করা পিটিশনে বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর দাবি করা হয় ঘটনার নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্তের জন্য সিবিআই-কে দায়িত্ব দেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে। ইডির দাবি, অভিযান চলাকালীন মুখ্যমন্ত্রী নিজে ল্যাপটপ, মোবাইল ফোন এবং বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি নিয়ে গিয়েছেন। ওই সমস্ত ডিভাইস ও নথি যাতে নষ্ট না করা হয় এবং অবিলম্বে ইডি-র হাতে ফিরিয়ে দেওয়া হয়, সেই আবেদন জানানো হয়েছে। একইসঙ্গে তদন্তে বাধা দেওয়ার অভিযোগে মুখ্যমন্ত্রী এবং সংশ্লিষ্ট পুলিশ আধিকারিকদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনে এফআইআর দায়ের করার অনুমতি চেয়েছে কেন্দ্রীয় সংস্থা।
ইডির এই পদক্ষেপকে পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বিস্ফোরক দাবি করেন২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে জল জীবন মিশনের বরাত পাওয়া একটি সংস্থা কাকদ্বীপের একটি ব্যাঙ্ক থেকে আই-প্যাকের অ্যাকাউন্টে ১৬ কোটি টাকা ট্রান্সফার করেছিল। এমনকি দিল্লির আবগারি দুর্নীতি এবং গোয়ার নির্বাচনে হাওলার মাধ্যমে টাকা পাঠানোর ক্ষেত্রেও আই-প্যাক জড়িত বলে তাঁর অভিযোগ। পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী যেভাবে তল্লাশিতে বাধা দিয়েছেন তাকে ‘গুণ্ডামি’ বলে অভিহিত করেছেন শুভেন্দু। তিনি বলেন, “রাজীব কুমারের সময় বা ফিরহাদ হাকিমদের গ্রেফতারির সময়ও এমনটা হয়েছে। এটা ওনার অভ্যাসে পরিণত হয়েছে।” বিরোধী দলনেতার অভিযোগ, পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীকে ব্যবহার করে কেন্দ্রীয় সংস্থার কাজে বাধা দেওয়া হয়েছে। কেন আধিকারিকরা মুখ্যমন্ত্রীকে বাধা দেননি, সেই প্রশ্নে তিনি জানান, বাধা দিলে আধিকারিকদের ওপর আক্রমণের আশঙ্কা ছিল।
ইডির এই পদক্ষেপের পর এখন নজর হাইকোর্টের নির্দেশের দিকে। আই-প্যাকের সঙ্গে দিল্লির আবগারি দুর্নীতি বা জল জীবন মিশনের মতো প্রকল্পের আর্থিক যোগসূত্র প্রমাণিত হলে তা তৃণমূল সরকারের জন্য বড় অস্বস্তির কারণ হতে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। অন্যদিকে, শাসকদলের পক্ষ থেকে এখনও এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া না গেলেও, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার তত্ত্বই উঠে আসছে ঘাসফুল শিবির থেকে।
