তারক হরি, পশ্চিম মেদিনীপুর:
এমএ পাশ চোর পাকড়াও করলো মেদিনীপুর কোতোয়ালী থানার পুলিশ। চোরের এত্ত বড়ো ডিগ্রি শুনে রীতিমতো অবাক জেলাবাসী থেকে পুলিশ কর্তারাও।আবার সেই চোর নিজ মুখে সাফাই,শুধু এম এ পাশ নয়,সাথে এল এলবি ডিগ্রিও রয়েছে তার ঝুলিতে। এমনই এক মেধা চোরের খবর এখন জেলা জুড়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।
জানা গিয়েছে,পশ্চিম মেদিনীপুরের জেলা শহর মেদিনীপুরের অভিজাত এলাকা বিধাননগরের একটি চুরির ঘটনায় অভিযুক্ত চোর সৌমাল্য চৌধুরী কে পাকড়াও করেছে মেদিনীপুর কোতোয়ালি থানার পুলিশ।সৌমাল্য অকপটে পুলিশের কাছে স্বীকার করেছে,যে এই চুরির নেশায় সে আসক্ত। এখনও অবধি বিভিন্ন এলাকায় সে শতাধিক চুরি করেছে।তার এই বুলি আউরানোয় রীতিমতো তাজ্জব পুলিশ কর্তারা।
প্রসঙ্গত, মাস খানেক আগে মেদিনীপুর শহরের বিধাননগর এলাকায় একটি বাড়িতে চুরির ঘটনা ঘটে। কয়েক লক্ষ টাকার সোনাদানা লুট হয়,সেই ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ বাঁকুড়া থেকে কীর্তিমান কে গ্রেপ্তার করে।তার কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে চুরি যাওয়া গহনা।
আরও জানা গিয়েছে, তার এই চুরির কাজে হাত পাকানো শুরু ২০১৮ সাল থেকে।এরপর সে হাওড়া সহ আসানসোলে একাধিক চুরির ঘটনা সংঘটিত করেছে।জানা গিয়েছে, রীতিমত অভিজাত পরিবারের ছেলে হয়েও শেষমেষ চর্যবৃত্তি বৃত্তি পেশাকে সে মনে প্রাণে আপন করে নেয়।এবং প্রথম কাজ শুরু করে নিজের বাড়ি থেকেই ,সৌমাল্যর মা মধুছন্দা চৌধুরী তিনি পেশায় শিক্ষিকা ছিলেন। একদিন তার মায়েরই গহনা চুরি করে। বারংবার তার পরিবার তাকে ভালো পথে ফেরানোর চেষ্ঠা করলেও বিফলে যান।এক সময় আসানসোলে চুরির ঘটনায় গ্রেফতার হওয়ার পর তার মা অভিমানে আত্মঘাতী হন। তবুও এতটুকু দমেনি কৃতিমান সৌমাল্য, বরং ফুল ফার্মে অসাধু কাজ কর্মে আস্তে-পিষ্টে জড়িয়ে বিভিন্ন জায়গায় চুরির কান্ড ঘটিয়েছে।আসানসোলে বর্তমানে একাই থাকেন সৌমাল্যর বাবা সুনীল চৌধুরী।
মেদিনীপুর কোতোয়ালী থানার পুলিশ তাকে পাকড়াও করে ইতিমধ্যেই মেদিনীপুর আদালতে তোলা হলে বিচারক ৫ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে। বর্তমানে শ্রী ঘরে ঠায় হয়েছে কৃমিমান চোরের!!

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *