তারক হরি, পশ্চিম মেদিনীপুর:

ঘাটাল লোকসভা কেন্দ্র রাজ্যের মধ্যে একটা গুরুত্বপূর্ন প্রাসঙ্গিক ভোট কেন্দ্র বলা চলে। মেদিনীপুরের ঐতিহাসিক মাটি নানান চড়াই উৎরাইয়ের সাক্ষী থেকেছে। বরাবরই এই ভোট কেন্দ্রে মানুষের জনমত ও রায় এর ওপর শাসক বিরোধী দুই দলই তাদের নিজস্ব স্ট্র্যাটেজি বহাল রাখতে তৎপর।
এদিকে এখনও নির্বাচন কমিশন সূত্রে ভোট ঘোষণার দিনক্ষণ ঠিক হয়নি, তা বলে পার্থী নির্বাচনের ক্ষেত্রে কি আর বসে থাকা যায়! সেই দিকে অনেক আগে থেকেই অন্ত প্রক্রিয়া চালিয়ে গেছে তৃণমূল – বিজেপি দুই দলই।
শুক্রবার বাংলায় পা রাখেন দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। লোকসভার পূর্বে তাঁর এই রাজ্যে আগমন বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ ইঙ্গিত আগেই আঁচ করে নিয়েছিলেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ মহল। অনুমান করা হয়েছিল ভোট প্রস্তুতির পূর্বে রণনীতির নির্দেশ সহ রাজ্যের একাধিক লোকসভা কেন্দ্র তিনি নিজ মুখেই চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকায় সিলমোহর দেবেন। এবার সেটাই সত্যি হল।
লোকসভা নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণার বেশ আগেই সারা দেশে ১৯৫-টি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করে চমক দেয় বিজেপি। পাশাপাশি রাজ্যের মধ্যে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ লোকসভা ঘাটাল লোকসভা কেন্দ্রের পার্থীর নাম নিশ্চিত করে সিলমোহর দেওয়া হল।শনিবার বিকেলে বিজেপি-র কেন্দ্রীয় কমিটির তরফে জানিয়ে দেওয়া হয় পশ্চিম মেদিনীপুরের ঘাটাল লোকসভা আসনে বিজেপি-র প্রার্থী হচ্ছেন হিরন্ময় চট্টোপাধ্যায় ওরফে হিরণ-ই।

অন্যদিকে , তৃনমূলের এবারও প্রার্থী হচ্ছেন দু দুবারের জয়ী সাংসদ দেব। তবে মাত্র ১ মাস আগেই তৃণমূলের তারকা সাংসদ দেব এর রাজনৈতিক অবস্থান ও ভবিষ্যৎ নিয়ে চূড়ান্ত পর্যায়ে জল্পনা ছড়ায়। সূত্রে শোনা যাচ্ছিল এবার ভোটে দেব আর ভোট ময়দানে নামতে চাইছেন না।নানান জল্পনাতে ঘৃতাহুতি দিয়ে স্বয়ং দেব নিজেই একাধিক মন্তব্য, সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর স্টেটাস,দেখে খোদ তৃণমূলের শীর্ষনেতৃত্ব রাও স্বীকার করে নিয়েছিলেন যে তৃণমূলের সাথে দূরত্ব বাড়তে চাইছেন দেব। তারপর নাটকীয় ভাবেই জল্পনার মোড় ঘুরে যায়, মুখ্যমন্ত্রী ও সেকেন্ড ইন কমান্ড অভিষেকের সাথে বৈঠকের পরেই আরামবাগে এক সভা থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সভাসঙ্গী হিসাবে ঘাটালের সাংসদ দেবকে সেই মঞ্চ থেকেই ঘোষণা করেন এবারও ঘাটালের প্রার্থী হচ্ছেন দেব।
তবে বিজেপি সূত্রেই অনেক আগে থেকেই ঘাটাল লোকসভায় দেব এর প্রধান প্রতিপক্ষ হিসেবে খড়গপুরের বিধায়ক হিরণ কেই নিশ্চিত পার্থী হিসেবে পেতে চেয়েছিলেন গেরুয়ার শীর্ষমহল। একদিকে তিনি খড়গপুরেই চব্বিশ ঘণ্টাই মানুষের পাশে থেকেছেন, নানান বিপদে আপদে শহরবাসীর কাছে ছুটে গিয়েছেন বারেবারে। বেশ কয়েবছর পশ্চিম মেদিনীপুরের মাটিতে মানুষের সাথে মিশে শক্ত ভিত আরও মজবুত করেছেন। ঘাটাল লোকসভায় প্রধান মুখ হিসেবে এবার হিরণ এর নামেই সিলমোহর পড়লো।
ঘাটাল লোকসভার সম্মুখসমরে ভোট যুদ্ধে এবার টানটান লড়াই হতে চলেছে দুই তারকা পার্থীর কার্যত এমনটাই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। ঘাটাল লোকসভা শেষ অবধি কাকে সুযোগ দেবন ? সেটা কোটি টাকার প্রশ্ন হলেও , চূড়ান্ত শুভক্ষণে ভোট যন্ত্রে শেষ কথা বলবেন জনতা জনার্দন!

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *