নিজস্ব প্রতিনিধি, পশ্চিম মেদিনীপুর: রূপনারায়ণ নদে নৌকাডুবি হয়ে নিখোঁজ কমপক্ষে ৫। এর মধ্যে রয়েছে এক শিশু ও এক কিশোর ও দুই বৃদ্ধ ও এক বৃদ্ধা।
জানা গিয়েছে, এই চারজনের বাড়ি হাওড়া এবং একজনের বাড়ি বাগনানের মানকুর এলাকায়। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ঘটনাটি ঘটে দাসপুর থানার দুধকোমরা এবং হাওড়ার বাগনান থানার চিতনান এলাকার মাঝে রূপনারায়ণ নদে।
জানা গিয়েছে মোট ১৮ জনের একটি দল মানকুর থেকে নৌকায় চেপে পশ্চিম মেদিনীপুরের দুধকুমরার ত্রিবেনী পার্কে চড়ুইভাতি করতে আসে। চড়ুইভাতি শেষে তারা ফের নৌকায় চেপেই মানকুরের দিকে ফিরছিলেন। সেই সময়ই কোন কারণবশত নৌকা কাত হয়ে নদীতে ডুবে যায়। এদিকে ওই নৌকা ডুবতে দেখে নদীতে পাড়ে থাকা অন্যান্য নৌকার মাঝিরা নৌকা নিয়ে নদীতে ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কাজ করেন। একজনের দেহ সহ মোট ১৩ জনকে উদ্ধার করতে সক্ষম হন। বাকিরা এখনো নিখোঁজ।
আরো জানা গিয়েছে, হাওড়ার বেলগাছিয়ার লিচুবাগান থেকে যে ১৩ জন এসেছিলেন আর মানকুরের পাঁচজন ছিলেন।তাদের মধ্যে মহাদেব কর্মকার ছিলেন মূল উদ্যোক্তা। তিনি তার পরিচিত গণেশ মান্নার বাড়িতে মানকুরে এসেছিলেন। সেখান থেকেই এই চড়ুইভাতি করতে যাওয়ার পরিকল্পনা। গণেশ মান্না নিজেও এদিন পিকনিকে গিয়েছিলেন।
তিনি বলেন যাওয়ার সময় নৌকা দুটি খেপে ১৮ জনকে ভাগ করে নিয়ে গিয়েছিলেন। আর ফেরার সময় একটি ক্ষেপেই সকলকে নিয়ে ফিরছিলেন আর এতেই ঘটে যায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা।
যাত্রীদের মধ্যে কয়েকজন বলেন, নৌকায় জল ছিল,তারা নৌকার মাঝিকে জল বের করে নৌকা ছাড়ার কথা বললেও মাঝি তা শোনেননি।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে,নিখোঁজরা হলেন ঋষভ পাল (৭), প্রীতম মান্না (১৭), অচ্যুৎ সাহা, অমর ঘোষ ও তার স্ত্রী সঙ্গীতা ঘোষ। প্রিতমের বাড়ি মানকুরে। বাকি চারজনের বাড়ি হাওড়ার বেলগাছিয়ার লিচু বাগান এলাকায়। দুর্ঘটনার পরেই নিখোঁজদের সন্ধানে স্থানীয় মাঝিদের নিয়ে পুলিশ রূপনারায়ণ নদের মানকুর বাক্সি সহ বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি শুরু করে। ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা একটি দল।
অন্য দিকে এই ঘটনার খবর পেয়েই ঘটনাস্থালে যান হাওড়ার গ্রামীণ পুলিশের সুপার স্বাতী ভাঙ্গালিয়া, আমতার বিধায়ক সুকান্ত পাল , অন্যান্যরা।বেলগাছিয়ার বাসিন্দারা জানিয়েছেন বিকেল চারটে সাড়ে চারটের পর থেকে তারা আর কাউকে ফোনে পাননি। সন্ধ্যার পর জানতে পারেন এই নৌকাডুবির।
রূপনারায়ণ নদে নৌকা ডুবির ঘটনায় একই পরিবারের ছয় সদস‍্য মৃত‍্যুর মুখ থেকে বেঁচে বাড়ি ফিরে এসেছে। ছয় জনের মুখেই এখনও আতঙ্কের ছাপ স্পষ্ট। কিছুতেই ভুলতে পারছে না সেই রাতের বিভীষিকার কথা। বাকি সহ যাত্রী যারা ছিলেন তাদের মধ্যে এখনও পর্যন্ত এক জনের দেহ উদ্ধার হয়েছে।মৃতার নাম সুনন্দা ঘোষ। বাকিদের খোঁজে নদী বক্ষে তল্লাশি চালাচ্ছে উদ্ধারকারী দল। উদ্ধার হওয়া পরিবারের সকল সদস‍্য সহ প্রতিবেশীরা শোকাহত।গোটা এলাকায় এখনও উৎকণ্ঠা বিরাজমান।

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *