সঙ্কেত ডেস্ক:চলন্ত লোকাল ট্রেনে গুলি চালিয়ে আত্মঘাতী হলেন এক RPF জওয়ান। বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে ব্যান্ডেল – বর্ধমান লোকাল পালশিট স্টেশনে পৌঁছলে ঘটনাটি ঘটে। নিহত জওয়ানের নাম শুভঙ্কর সাধুখাঁ (৪৪) বলে জানা গিয়েছে।শুভঙ্করের বাড়ি বর্ধমানের বড়নীলপুরে।জানা গিয়েছে আপ হাওড়া বর্ধমান শেষ লোকাল ট্রেনের মহিলা কামরায় কর্তব্যরত ছিলেন তিনি। আচমকাই পালসিট স্টেশনের কাছে নিজের সার্ভিস রিভলবার থেকে গুলি চালিয়ে দেন শুভঙ্কর।

হস্পতিবার মধ্যরাত পেরিয়ে তখন বর্ধমানের দিকে ছুটছে শেষ লোকাল। শীতেরা রাতে কামরায় ছিলেন হাতে গোনা কয়েকজন। সকলেই ব্যস্ত নিজের নিজের জায়গা করে নিতে। যাত্রীর ভিড়ে মিশে ছিলেন ওই যুবক। আর পাঁচ জনের মতনই তাঁর আচরণ ছিল স্বাভাবিক, বলছেন সহযাত্রীরা। আচমকাই ট্রেনের গতির তাল কাটল গুলি শব্দে। সকলে হতচকিত হয়ে যান। হুড়োহুড়ি পড়ে যায়। চলন্ত লোকাল ট্রেনের মধ্যে গুলি চালাল কে! বোঝাই দুস্কর।আকস্মিকতার ঘোর কাটিয়ে উঠতেই সহযাত্রীরা দেখতে পান, একটি যুবক সিটের কোণে রক্তাক্ত হয়ে পড়ে রয়েছেন। হাতের মুঠোয় তখনও তাঁর বন্দুক ধরা। মাথা-কপাল থেকে চুইয়ে বেরোচ্ছে রক্ত। সারা মুখ রক্তে মাখামাখি। জামা কাপড় রক্তে ভেজা।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার মধ্যরাত পেরিয়ে তখন বর্ধমানের দিকে ছুটছে শেষ লোকাল। শীতেরা রাতে কামরায় ছিলেন হাতে গোনা কয়েকজন। সাড়ে ১২টা নাগাদ হঠাৎ ট্রেনের কামরায় গুলির শব্দ শুনতে পান তাঁরা। প্রাথমিক আতঙ্ক কাটিয়ে গিয়ে দেখেন, গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পড়ে রয়েছেন এক উর্দিধারী RPF জওয়ান। পাশে পড়ে তাঁর বন্দুকটি। রক্তে ভেসে যাচ্ছে কামরা।ট্রেনের যাত্রীরা জানাচ্ছেন, তাঁর মোবাইলে একটি ফোন আসে। তারপরই তিনি গুলি চালিয়ে দেন নিজের কপালে।

পালশিট স্টেশনে ট্রেন দাঁড়ালে বিষয়টি গার্ডকে জানান তাঁরা। বর্ধমানে ট্রেন পৌঁছলে উদ্ধার করা হয় দেহ। প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, পারিবারিক অশান্তির জেরে আত্মঘাতী হয়েছেন তিনি। তবে সেজন্য ট্রেনের কামরাকেই কেন তিনি বেছে নিলেন তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠিয়েছে বর্ধমান GRP. পরিবারকে খবর দেওয়া হয়েছে।

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *