সঙ্কেত ডেস্ক: লোকসভা ভোটের মুখে বড় ধাক্কা! নির্বাচনী বন্ড প্রকল্প মামলায় সুপ্রিম কোর্টের ঐতিহাসিক রায়। বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি ডি ওয়াই চন্দ্রচূড়ের নেতৃত্বাধীন পাঁচ বিচারপতির সাংবিধানিক বেঞ্চ জানায়, বেনামি নির্বাচনী বন্ডের ফলে সংবিধানে প্রদত্ত বাক-স্বাধীনতার অধিকার লঙ্ঘিত হয়। তাই মোদী সরকারের জারি করা নির্বাচনী বন্ড প্রকল্প ‘অসাংবিধানিক’। অবিলম্বে তা ‘বাতিল হওয়া উচিত’।

এ দিন সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি ডি ওয়াই চন্দ্রচূড় বলেন, “নির্বাচনী বন্ড অসাংবিধানিক ও বিধি-বহির্ভূত। নির্বাচনী বন্ডের ব্যবস্থায় রাজনৈতিক দল ও আর্থিক অনুদানকারীর মধ্যে সুবিধার সম্পর্ক বা কুইড প্রো কিউ ব্যবস্থা তৈরি হতে পারে।”

সুপ্রিম কোর্ট আরও জানায়, বেনামি নির্বাচনী বন্ড প্রদান করা হলে তা তথ্য জানার অধিকার আইন এবং সংবিধানের ১৯ (১) (এ) ধারাকে ভঙ্গ করবে। উল্লেখ্য, সংবিধানের এই বিশেষ ধারার আওতাতেই দেশের নাগরিকদের বাক-স্বাধীনতা প্রদান করা হয়েছে।

উল্লেখ্য নির্বাচনে কালো টাকার খেলা রুখতেই ২০১৮ সালে কেন্দ্রীয় সরকার এনেছিল এই প্রকল্প। ২০১৮ সালে প্রয়াত অরুণ জেটলি কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী থাকাকালীন নির্বাচনি বন্ডের কথা ঘোষণা করেছিলেন। ২০১৭-র অর্থ বিলের মাধ্যমে আইনে একগুচ্ছ সংশোধনি এনে মোদি সরকার ২০১৮ থেকে নির্বাচনি বন্ড চালু করেছিল।এতে কে, কত টাকা দিচ্ছেন তা বোঝা যাবে না। কিন্তু অস্বচ্ছতার অভিযোগ এনে বিরোধীরা তা চ্যালেঞ্জ করেছিল।গত বছরই প্রধান বিচারপতি ডিওয়াই চন্দ্রচূড়ের নেতৃত্বে পাঁচ বিচারপতির বেঞ্চ সংরক্ষিত রাখে এই রায়। বৃহস্পতিবার সেই মামলার রায়দান হয়। সুপ্রিম কোর্টের রায়, এখনই ব্যাঙ্কগুলিকে ইলেক্টোরাল বন্ড ইস্যু করা বন্ধ করতে হবে। শুধু তাই নয়, এ পর্যন্ত স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া যা যা ইলেক্টোরাল বন্ড ইস্যু করেছে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দিতে হবে। নির্বাচন কমিশনের কাছে ওই তথ্য তুলে দেবে স্টেট ব্যাঙ্ক।

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *