নির্বাচনের আগে উত্তাল ঢাকা ,বাড়ছে ভারত বিরোধিতার সুর
সঙ্কেত ডেস্ক: বাংলাদেশের রাজনীতি এখন এক অত্যন্ত নাজুক সন্ধিক্ষণে। ২০২৪-এর বিপ্লব পরবর্তী বাংলাদেশে যখন একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রস্তুতি চলছে, তখন শরিফ ওসমান হাদির মতো একজন তরুণ নেতার হত্যাকাণ্ড জনমনে নতুন করে নিরাপত্তাহীনতা ও ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান প্রতিশ্রুতি ছিল রাষ্ট্র সংস্কার এবং জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। তবে হাদি হত্যাকাণ্ড এবং পরবর্তীতে ‘প্রথম আলো’ অফিসে অগ্নিসংযোগ বা মধুর ক্যান্টিনে ভাঙচুরের মতো ঘটনাগুলো প্রমাণ করে যে, মাঠ পর্যায়ে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এখনো পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে নেই। ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের আগে এ ধরনের অস্থিরতা নির্বাচনমুখী পরিবেশকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে আন্দোলনকারীদের একাংশ মনে করছেন হাদির খুনিরা প্রতিবেশী দেশে আশ্রয় নিয়েছে। এই ধারণা, সঠিক হোক বা না হোক, বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের বড় একটি অংশের মধ্যে ভারত-বিদ্বেষকে উসকে দিচ্ছে।দিল্লি এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করলেও, সীমান্ত ইস্যু এবং নিরাপত্তা নিয়ে দুই দেশের আস্থার সংকট এখন তুঙ্গে। দক্ষিণ এশিয়ায় স্থিতিশীলতার জন্য ঢাকা-নিল্লি সুসম্পর্ক জরুরি হলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে দুই দেশের কূটনৈতিক টেবিল বেশ শীতল।আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মহল এবং সংবাদমাধ্যম বাংলাদেশের এই পরিস্থিতিকে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এবং অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মতো সংস্থাগুলো রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে কোনো হত্যাকাণ্ড বা সংবাদমাধ্যমের (যেমন প্রথম আলো) ওপর আক্রমণের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। তারা প্রতিটি ঘটনার নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ বিচার দাবি করেছে।বাংলাদেশের স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সহিংসতামুক্ত নির্বাচনের ওপর জোর দিচ্ছে জাতিসংঘ। বিচারবহির্ভূত বা রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করা সরকারের প্রাথমিক দায়িত্ব হিসেবে দেখছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়।বিবিসি, আল-জাজিরা এবং নিউ ইয়র্ক টাইমসের মতো মাধ্যমগুলো হাদি হত্যাকাণ্ডকে ‘নতুন বাংলাদেশের রাজনৈতিক মেরুকরণের একটি নতুন মাত্রা’ হিসেবে দেখছে। তাদের মতে, বাংলাদেশে ডানপন্থী ও প্রগতিশীল শক্তির মধ্যে যে সংঘাত দানা বাঁধছে, হাদি হত্যাকাণ্ড সেই আগুনে ঘি ঢেলেছে।শরিফ ওসমান হাদির বিচার নিশ্চিত করা শুধুমাত্র একটি অপরাধের বিচার নয়, বরং এটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিশ্বাসযোগ্যতার প্রশ্ন। হাদির খুনিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা না গেলে দেশজুড়ে এই ‘ইনকিলাব’ বা প্রতিবাদী মেজাজ আরও উগ্র রূপ নিতে পারে, যা ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের জন্য শুভকর নয়।
