পদ্ম পুরস্কারের জন্য ৩০ জন বাঙালি গুণীজনের নাম রাষ্ট্রপতির কাছে জমা দিল অখিল ভারত হিন্দুমহাসভা
সঙ্কেত ডেস্ক: অখিল ভারত হিন্দুমহাসভার রাজ্য সভাপতি ডক্টর চন্দ্রচূড় গোস্বামীর উদ্যোগে পশ্চিমবঙ্গের প্রায় তিরিশ জন বিশিষ্ট বিজ্ঞানী, সংগীতশিল্পী, কবি-সাহিত্যিক, চিকিৎসক ও সমাজসেবীর নাম ভারতের সর্বোচ্চ অসামরিক সম্মান পদ্ম পুরস্কারের জন্য রাষ্ট্রপতির দপ্তরে জমা দেওয়া হয়েছে।হিন্দুমহাসভার পক্ষ থেকে একটি পেনড্রাইভ ও আনুষ্ঠানিক চিঠির মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর চিফ সেক্রেটারির কাছে এই নামগুলি সরাসরি পৌঁছে দেওয়া হয়। এর পাশাপাশি ইতিপূর্বেই সংগঠনের স্বেচ্ছাসেবকরা অনলাইনে সরকারি ফর্ম পূরণ করে এই ৩০ জন গুণীজনের নাম মনোনয়ন করেছেন।উল্লেখযোগ্য বিষয়, এর আগেও ডক্টর চন্দ্রচূড় গোস্বামীর উদ্যোগে পদ্মশ্রী দুখু মাঝির নাম প্রস্তাব করা হয়েছিল এবং পরবর্তীতে তিনি পদ্ম পুরস্কারে সম্মানিত হন। সেই সাফল্যের ধারাবাহিকতায় এবার আরও ৩০ জন সমাজসেবী ও কৃতী ব্যক্তিত্বের নাম প্রস্তাব করা হলো।
শুধু রাষ্ট্রপতির দপ্তর নয়, এই তালিকা পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল সি.ভি. আনন্দ বোসের কাছেও জমা দেওয়া হয়েছে। এর উত্তরে রাজ্যপাল ডক্টর চন্দ্রচূড় গোস্বামীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে একটি প্রশংসাপত্র ও চিঠি পাঠিয়েছেন।এই বছর হিন্দুমহাসভার পক্ষ থেকে যাঁদের নাম পদ্ম পুরস্কারের জন্য প্রস্তাব করা হয়েছে তাঁরা হলেন—ডক্টর বিবেকানন্দ চক্রবর্তী, আশুতোষ মজুমদার, গণেশ ঘোষ (বাউল), প্রবীর কুমার বিশ্বাস, অন্তরা মিত্র, পণ্ডিত নবকুমার মজুমদার, কৃষ্ণা পাত্র, সিপ্তি সরকার, শিব সৌম্য বিশ্বাস, সরোজ ভট্টাচার্য, উত্তম দেবনাথ, মন্দিরা মুখার্জী ব্যানার্জী, হিমেন্দু দাস, আব্দুল কাদের, ডক্টর অমৃতলাল বিশ্বাস, শুভ্রা ঘোষ, ডক্টর অনিরুদ্ধ পাল, ডক্টর গৌরব মজুমদার, পণ্ডিত রাজকুমার মজুমদার, শ্যামল মুখার্জী, তরুণ কান্তি মণ্ডল, লেখা মণ্ডল, পরিমল চন্দ্র মজুমদার, মহুয়া সাহা, সুনীতা রায় প্রধান, স্বপন কুমার রুইদাস, নাজনিনা সুলতানা, বিকাশ বসাক এবং মহাদেব গুড়িয়া।
আজ কলকাতার লীলারায় সভাঘরে হিন্দুমহাসভার উদ্যোগে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সেখানে পদ্ম পুরস্কারের জন্য মনোনীত সমাজসেবীদের হাতে রাষ্ট্রপতিকে লেখা চিঠির রিসিভ কপি, রাজ্যপালকে পাঠানো চিঠির রিসিভ কপি এবং রাজ্যপালের প্রশংসাপত্র তুলে দেওয়া হয়।এই অভিনব উদ্যোগ সম্পর্কে ডক্টর চন্দ্রচূড় গোস্বামী বলেন, “আমরা বিশ্বাস করি, যাঁরা নীরবে নিভৃতে সমাজসেবা করে দেশ ও জাতিকে সমৃদ্ধ করছেন, তাঁদের কাজ যদি যথাযথ সম্মান পায়, তবে সমাজের আরও অনেক মানুষ ভালো কাজে অনুপ্রাণিত হবেন। অনেক সময় প্রকৃত কাজের স্বীকৃতি সঠিক জায়গায় পৌঁছয় না, ফলে গুণীজনেরা সম্মান থেকে বঞ্চিত হন। জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সকলের মেধা ও শ্রমের স্বীকৃতি পাওয়া উচিত।”
হিন্দুমহাসভার অফিস সেক্রেটারি অনামিকা মণ্ডল সকল মনোনীত গুণীজনকে শুভেচ্ছা জানিয়ে জানান,আগামী দিনে এই সমস্ত গুণী ব্যক্তিত্বের সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে একটি তথ্যচিত্র নির্মাণ ও তথ্যচিত্র উৎসব আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে সংগঠনের।
