নিজস্ব প্রতিনিধি:বাড়ি থেকে পিকনিকে বেরিয়েছিলেন যুবতী। এরপর আর বাড়ি ফেরেননি। শেষে উদ্ধার হল যুবতীর অর্ধনগ্ন দেহ।বৃহস্পতিবার সালানপুর থানার অন্তর্গত ফুলবেড়িয়া বোলকুন্ডা গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত রাস্তার পাশে ফাঁকা এক জঙ্গল থেকে যুবতীর অর্ধ নগ্ন মৃতদেহ উদ্ধারের ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য এলাকায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে,যুবতী গত ৯ জানুয়ারি বাড়ি থেকে চিত্তরঞ্জন অজয় নদ সংলগ্ন সিমজুড়ি এলাকায় পিকনিকে যাওয়ার নাম করে বেরিয়েছিলেন। পিকনিক শেষ করে বাড়ি ফেরেননি তিনি। এদিন সকালে সালানপুর থানার ফুলবেড়িয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের সামডি মাধাইচক থেকে বোলকুন্ডা যাবার রাস্তার পাশে জঙ্গল থেকে এলাকার এক যুবতীর অর্ধ নগ্ন মৃতদেহ দেখতে পায় স্থানীয়রা।খবর জানাজানি হতেই এলাকার মানুষ ভিড় জমাতে শুরু করে এলাকায়।স্থানীয় বাসিন্দাদের অনুমান,ধর্ষণ করে যুবতীকে মেরে ফেলে গেছে দুষ্কৃতীরা।খবর দেওয়া হয় সালানপুর থানার সামডি ক্যাম্পের পুলিশকে।খবর পেয়ে ঘটনা স্থলে আসেন সালানপুর থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক অমিত কুমার হাটি,এসিপি সুকান্ত ব্যানার্জি সহ সামডি ক্যাম্প ইনচার্জ দীপক মণ্ডল ও পুলিশের দলবল।তখন পুলিশকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন স্থানীয়রা। বেশ কয়েক ঘন্টা পর পুলিশ যুবতীর দেহ উদ্ধার করে আসানসোল জেলা হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। এই ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দারা পুলিশকর্মীদের বিরুদ্ধে নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ তুলেছেন। তাঁরা জানান, ফোন করলেও পুলিশকর্মীরা সাড়া দেন না। বহিরাগতরা এই এলাকায় এসে দৌরাত্ম্য চালালেও পুলিশ কিছু করে না। তবে নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ মানতে চায়নি সালানপুর থানার পুলিশ।
পরিবারের তরফে জানা গিয়েছে, নিহত তরুণী বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নিয়ে নার্সিং প্রশিক্ষণ নিচ্ছিলেন। সঙ্গে কম্পিউটার প্রশিক্ষণও নিচ্ছিলেন তিনি। কী ভাবে তরুণী ওই জঙ্গলে পৌঁছলেন বেব্যাপারে অন্ধকারে পরিবারের লোকেরা।
পুলিশ যুবতীর মৃতদেহটি উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য পাঠানো হয় আসানসোল জেলা হাসপাতালে।এক আধিকারিক বলেন, ‘ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে যুবতীর ওপর শারীরিক নির্যাতনের কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে তাকে মুখ চাপা দিয়ে শ্বাসরোধ করে খুন করা হয়েছে। এই ঘটনায় একটি খুনের মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু হয়েছে।’

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *