সঙ্কেত ডেস্ক: বহু টানাপোড়েন শেষে শেষমেশ কালীঘাটের কাকু ওরফে সুজয়কৃষ্ণ ভদ্রের কণ্ঠস্বরের নমুনা সংগ্রহ করতে পেরেছে ইডি। গতকাল সন্ধে থেকে চূড়ান্ত নাটকীয় পরিস্থিতি তৈরি হয় এসএসকেএম হাসপাতালে। সেই নাটকের শেষ হয় আজ ভোররাতে। এসএসকেএম থেকে গতকাল রাতে সুজয়কৃষ্ণ ভদ্রকে বের করে জোকা ইএসআই হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিল ইডি। সেখানেই টানা কয়েকঘণ্টা ধরে তাঁর কণ্ঠস্বরের নমুনা পরীক্ষা হয়। শেষমেশ ভোররাতে আবারও কালীঘাটের কাকুকে ফিরিয়ে আনা হয় এসএসকেএম হাসপাতালে।
এই ভয়েস স্যাম্পেল টেস্টকে ডাক্তারি ভাষায় বলে ‘ফরেন্সিক ভয়েস অ্যানালিসিস’। এতে কণ্ঠস্বরের তীক্ষ্ণতা পরীক্ষা করা হয়। কোনও ব্যক্তি কীভাবে কথা বলছেন, তাঁর গলার জোর কতটা, কথা বলার সময় কখন থামছেন সেসব সূক্ষ্ম বিষয়গুলো পরীক্ষা করা হয়। এরপর অন্য কোনও জায়গা থাকে পাওয়া কণ্ঠস্বরের নমুনার সঙ্গে সেটি মিলিয়ে দেখা হয়। এর থেকে বোঝা যেতে পারে দুটি কণ্ঠস্বর এক কি না। সেই পরীক্ষাই করা হয় সুজয়কৃষ্ণের।

এই কণ্ঠস্বর পরীক্ষার জন্য প্রায় সাড়ে চার মাস পর এসএসকেএম হাসপাতালের বাইরে বের হন সুজয়কৃষ্ণ । গত ২২ অগাস্ট এসএসকেএম হাসপাতালের কার্ডিওলজি বিভাগে ভর্তি করা হয়েছিল তাঁকে। সুজয়কৃষ্ণের কণ্ঠস্বরের নমুনা নেওয়া নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে টানাপোড়েন চলছিল। এর আগে একবার নমুনা নিতে গিয়ে এমএসভিপি-র বাধার মুখে পড়েছিল ইডি। অবশেষে বুধবার রাতে জোকা ইএসআই হাসপাতালে ভয়েস স্যাম্পেল টেস্ট এর জন্য নিয়ে যাওয়া হয় ‘কাকু’কে। ভোররাতে আবার ফিরিয়েও আনা হয় এসএসকেএম হাসপাতালে।

উল্লেখ্য, নিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্ত করতে গিয়ে একটি ভয়েস রেকর্ড হাতে আসে ইডির। সেই কণ্ঠস্বরটি কালীঘাটের কাকু ওরফে সুজয়কৃষ্ণ ভদ্রের হতে পারে বলে সন্দেহ ইডির। সেই কারণেই সুজয়কৃষ্ণ ভদ্রের কণ্ঠস্বর সংগ্রহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিল। আদালতের দ্বারস্থ হয়েও সুজয়কৃষ্ণ ভদ্রের কণ্ঠস্বরের নমুনা সংগ্রহ করে উঠতে পারছিল না ইডি। শেষমেশ বহু টানাপোড়েন শেষে বুধবার সুজয়কৃষ্ণ ভদ্রের কণ্ঠস্বরের নমুনা সংগ্রহ করতে পেরেছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট।

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *