নিজস্ব প্রতিনিধি, দুর্গাপুর: ঝাড়খণ্ডে এক পরিযায়ী শ্রমিকের রহস্যমৃত্যুকে কেন্দ্র করে গত দু’দিন ধরে অগ্নিগর্ভ মুর্শিদাবাদের বেলডাঙা। আর সেই ঘটনার খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে উন্মত্ত বিক্ষোভকারীদের হাতে নৃশংসভাবে আক্রান্ত হলেন কলকাতার এক বেসরকারি বৈদ্যুতিন সংবাদমাধ্যমের মহিলা সাংবাদিক সোমা মাইতি। শ্লীলতাহানি থেকে শুরু করে চুলের মুঠি ধরে মারধর— বাদ গেল না কিছুই। বর্তমানে তিনি গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শনিবার রাজ্যজুড়ে তীব্র নিন্দার ঝড় উঠেছে। বঙ্গ সফরে এসে খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এই ঘটনার নিন্দা জানানোর পর বিকেলেই সাংবাদিক বৈঠক করে রাজ্য সরকারকে তুলোধনা করলেন বিজেপি নেত্রী লকেট চট্টোপাধ্যায়। শনিবার বিকেলে পশ্চিম বর্ধমানের কাঁকসার একটি হোটেলে আয়োজিত সাংবাদিক বৈঠকে লকেট চট্টোপাধ্যায় এই ঘটনাকে ‘পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র’ বলে অভিহিত করেন। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিধায়ক লক্ষণ ঘড়ুই এবং জেলা বিজেপির অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। লকেট বলেন”একজন সাংবাদিক তাঁর পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে এভাবে লাঞ্ছিত হবেন, তা সভ্য সমাজে মেনে নেওয়া যায় না। সোমা মাইতিকে একপ্রকার মেরেই ফেলার চেষ্টা হয়েছিল।”পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, “পুলিশ শুধু দাঁড়িয়ে দেখল। আক্রান্ত সাংবাদিককে উদ্ধার করা বা কোনো গাড়ির ব্যবস্থা করার ন্যূনতম সৌজন্য দেখায়নি প্রশাসন।” মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী সাংবাদিকদের সুরক্ষা দেওয়ার বদলে তাঁদের ঘটনাস্থলে যেতে বারণ করছেন, যা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক।” সোমা মাইতির ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই শনিবার বেলডাঙায় ফের আক্রান্ত হন কৌশিক ঘোষ, পলাশ মণ্ডল এবং চিত্র সাংবাদিক কেষ্ট দত্তের মতো একাধিক সংবাদকর্মী। লকেট চট্টোপাধ্যায়ের দাবি, রাজ্যে ‘তুষ্টিকরণের রাজনীতি’র ফলেই দুষ্কৃতীরা আজ বেপরোয়া। উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের সংযোগকারী পথ স্তব্ধ করে দিয়ে সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর করা হলেও প্রশাসন হাত গুটিয়ে বসে আছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। বিজেপির দাবি, অনতিবিলম্বে সোমা মাইতি-সহ সমস্ত আক্রান্ত সাংবাদিকদের ওপর হামলাকারীদের চিহ্নিত করে কঠোরতম শাস্তি দিতে হবে। সাংবাদিক মহলও এই ন্যক্কারজনক ঘটনার প্রতিবাদে পথে নামার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। Share Post Whatsapp Share Post navigation দুর্গাপুর মহিলা সরকারি মহাবিদ্যালয়ে নতুন একাডেমিক বিল্ডিং, সূচনা করলেন সাংসদ কীর্তি আজাদ দুর্গাপুরে বিজেপির গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে, সভা শেষে ক্ষোভে ফেটে পড়লেন বর্ষীয়ান নেতা