ভোটের আগে এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা মমতার, বৈঠক বয়কটের ডাক

সঙ্কেত ডেস্ক:ভোটের মুখে রাজ্যে স্পেশাল ইন্টেনসিভ রিভিশন (SIR) বা ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া ঘিরে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে কার্যত যুদ্ধ ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার দিল্লির চাণক্যপুরীর নিউ বঙ্গভবনে সাংবাদিক বৈঠক করে কমিশনের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্ব, অসহযোগিতা ও দুর্ব্যবহারের অভিযোগে সরব হন তিনি। এদিন তাঁর পাশে ছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও এসআইআর প্রক্রিয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত কয়েকটি পরিবার।

মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, নির্বাচন কমিশন এখন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের নির্দেশে কাজ করছে এবং ‘হিজ মাস্টার্স ভয়েস’-এ পরিণত হয়েছে। নাম না করে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে নিশানা করে তিনি বলেন, ছ’বার চিঠি পাঠিয়েও কোনও উত্তর মেলেনি। সুপ্রিম কোর্ট ডিসক্রিপেন্সি তালিকা প্রকাশের নির্দেশ দিলেও তা মানা হয়নি বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর আরও অভিযোগ, ইআরও-র সুপারিশ ছাড়াই তড়িঘড়ি প্রায় ৫৮ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে।

মমতার দাবি, জীবিত ভোটারদেরও মৃত দেখানো হচ্ছে। এমনকি অমর্ত্য সেন ও কবি জয় গোস্বামীর মতো বিশিষ্টজনদের নাম ও পদবীর বানানে ভুল দেখিয়ে এসআইআর নোটিশ পাঠানো হয়েছে বলে অভিযোগ তোলেন তিনি।

নির্বাচন কমিশনের আইটি ডিরেক্টর সীমা খান্নার বিরুদ্ধেও বিস্ফোরক অভিযোগ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, বিজেপির হয়ে কাজ করছেন সীমা খান্না এবং এআই-এর সাহায্যে বেছে বেছে ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে। ভবানীপুরে ৪০ হাজার এবং বন্দর কেন্দ্রে বিপুল সংখ্যক ভোটারের নাম ইতিমধ্যেই তালিকা থেকে বাদ পড়েছে বলে দাবি করেন তিনি। পাশাপাশি ব্যাকডোর দিয়ে রোল অবজারভার নিয়োগ এবং রাজ্যের আধিকারিকদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও তোলেন তৃণমূল সুপ্রিমো।

এসআইআর প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সংখ্যালঘু ও মতুয়া সম্প্রদায়কে টার্গেট করা হচ্ছে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন মমতা। তিনি বলেন, বাংলায় ৩৩ শতাংশ সংখ্যালঘু মানুষ বাস করেন—তাঁদের অধিকার কি থাকবে না? মতুয়াদের প্রসঙ্গ টেনে তাঁর দাবি, যাঁদের ভোটে বিজেপি ক্ষমতায় এসেছে, এখন তাঁদের সঙ্গেই বিশ্বাসঘাতকতা করা হচ্ছে। বাংলায় কথা বললেই বাংলাদেশি বলে দাগিয়ে দেওয়ার অভিযোগও করেন তিনি।

এদিন ১৫টি ভুক্তভোগী পরিবারকে নিয়ে নির্বাচন কমিশনে যান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে সেখানে তাঁদের সঙ্গে চূড়ান্ত দুর্ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ তাঁর। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, তাঁদের প্রশ্নের কোনও উত্তর দেওয়া হয়নি, বরং রূঢ় আচরণ করা হয়েছে। এমনকি তাঁর সঙ্গেও জোরে কথা বলা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। এই ঘটনার প্রতিবাদে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সমস্ত বৈঠক বয়কটের ডাক দেন তৃণমূল নেত্রী।

সবচেয়ে বিস্ফোরক দাবি করে মমতা বলেন, এসআইআর আতঙ্কে রাজ্যে ইতিমধ্যেই ১৫০-র বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে—অনেকে স্ট্রোক বা আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন। গণতান্ত্রিকভাবে লড়তে না পেরে কেন্দ্র ও নির্বাচন কমিশন চক্রান্ত করে বাংলাকে টার্গেট করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *