বিশেষ প্রতিনিধি: ভোটের ঢাকে কাঠি। দেশ জুড়ে সাত দফায় ৪৭ দিন ধরে হবে লোকভা ভোট। গণনা ৪ঠা জুন। পাশাপাশি হবে ২৬ বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচন। কার্যকর হল আদর্শ আচরণবিধি। দেশব্যাপী ৫৪৩টি লোকসভা আসনে ভোট ঘোষণা হল। এবারের লোকসভা নির্বাচনে ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা ১০.৫ লাখ। ৯৭ কোটি ভোটার ভোট দেবেন ৫৫ লাখ ইভিএমে। এবারে মহিলা ভোটারের সংখ্যা নজিরবিহীনভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ১২ রাজ্য এমন রয়েছে, যেখানে পুরুষ ভোটারের তুলনায় মহিলা ভোটারের সংখ্যা বেশি। দেশে ৪৯.৭ কোটি পুরুষ ও ৪৭.১ কোটি মহিলা ভোটার। নতুন ভোটার ১.৮২ কোটি। শতবর্ষের উপরে আয়ুর ভোটারের সংখ্য়া ২.১৮ লক্ষ। ট্রান্সজেন্ডার ভোটারের সংখ্যা ৪৮ হাজার।

কমিশনার রাজীব কুমার জানিয়েছেন, ৮৫ বছরের ঊর্ধ্বে ভোটারদের কাছে ফর্ম পৌঁছে দেওয়া হবে। তারা বুথে না আসলে, বাড়ি গিয়ে ভোট গ্রহণ করা হবে। নির্বাচনী ডিউটিতে সরকারি কর্মীদের ব্যবহারের ক্ষেত্রেও কড়া নিয়ম কমিশনের। মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের নির্দেশ চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের ভোটের কাজে ব্যবহার করা যাবে না। মোট ২১০০ পর্যবেক্ষক নিয়োগ করা হচ্ছে। তারাই বাহিনী নিয়োগ করবেন। রাজনীতিতে অপরাধ প্রবণতা কমাতে তৎপর কমিশন। প্রার্থীর অপরাধের ইতিহাস বা ক্রিমিনাল ব্যাকগ্রাউন্ড থাকলে, তাঁকে তিনবার সংবাদপত্রে বিজ্ঞপ্তি দিতে হবে। রাজনৈতিক দলকেও জানাতে হবে, কেন অপরাধের ইতিহাস থাকা কাউকে প্রার্থী করা হল, অন্য কেউ কেন প্রার্থী হলেন না। মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের বার্তা, ভোটে হিংসার কোনও জায়গা নেই। লোকসভা নির্বাচনে যেন রক্তগঙ্গা না বয়। অভিযোগ পেলেই কড়া ব্যবস্থা নিতে জেলাশাসকদের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। এছাড়াও রাজীব কুমার জানিয়েছেন যে, ১১ রাজ্যের নির্বাচনে ৩৪০০ কোটি টাকার আর্থিক লেনদেন আটকানো হয়েছে।

কমিশনারের সাফ ঘোষণা, লোকসভা নির্বাচনে টাকার ব্যবহার করে ভোটারদের প্রভাবিত করা যাবে না। নজরদারির জন্য সমস্ত এনফোর্সমেন্ট এজেন্সিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিনামূল্যে কোনও উপহার দেওয়া চলবে না। টাকা, মদ, শাড়ি, প্রেসার কুকারের মতো জিনিস দিয়ে ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করলেই কড়া পদক্ষেপ। জিএসটি-র মাধ্যমে নজর রাখা হবে যে কোনও পণ্যের হঠাৎ চাহিদা বাড়ছে কি না। বিমানবন্দরগুলোতে কড়া নজরদারি রাখা হবে। যেসব রাজ্যে হেলিকপ্টার অবতরণম করে, সেখানেও চেকিং হবে। রেল ও সড়কপথেও কড়া নজরদারি চলবে। নির্বাচন নিয়ে ভুল তথ্য প্রচার নিয়েও সতর্ক কমিশন। ভুয়ো খবর তৈরি করা যাবে না। তথ্য যাচাই করে রাজ্য সোশাল মিডিয়া পোস্ট ডিলিট করতে পারবে, যা এবারের নির্বাচনে নয়া নিয়ম। যাচাই না করে কোনও খবর শেয়ার করতে নিষেধ করা হয়েছে। সব তারকা প্রচারককে নির্বাচন কমিশনের গাইডলাইনের নোটিস দিতে হবে। ইস্যু ভিত্তিক প্রচার হোক, কিন্তু ঘৃণামূলক মন্তব্য, ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে কোনও আক্রমণ করা চলবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে কমিশন। বিজ্ঞাপন দিলে সংবাদ মাধ্যমকেও তা জানাতে হবে। আর্থিক লেনদেনের ডিজিটাল রেকর্ড রাখা হবে। প্রচারে কোনওভাবে শিশুদের ব্যবহার করা যাবে না।

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *