হাঁসখালি গণধর্ষণ মামলা: তৃণমূল নেতার ছেলেসহ ৩ জনের আমৃত্যু কারাদণ্ড
সঙ্কেত ডেস্ক:নদিয়ার হাঁসখালিতে এক নাবালিকাকে গণধর্ষণ ও মৃত্যুর ঘটনায় ঐতিহাসিক রায় দিল রানাঘাট আদালত। মূল অভিযুক্ত সোহেল গয়ালি-সহ তিনজনকে আমৃত্যু কারাদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক। সাজাপ্রাপ্ত সোহেল স্থানীয় তৃণমূল নেতা সমরেন্দ্র গয়ালির ছেলে।
মঙ্গলবার রানাঘাট আদালতের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা বিচারক এই চাঞ্চল্যকর মামলার রায় ঘোষণা করেন। আদালত সূত্রে খবর মূল অভিযুক্ত সোহেল গয়ালি, প্রভাকর পোদ্দার ও রণজিৎ মল্লিককে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তথ্য প্রমান লোপাট ও অপরাধে সহায়তার দায়ে সোহেলের বাবা সমরেন্দ্র গয়ালি, দীপ্ত গয়ালি এবং আরও একজনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।এই ঘটনায় অভিযুক্ত এক কিশোরকে বর্তমান আইনের অধীনে জামিন দেওয়া হলেও কড়া নজরদারিতে রাখার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
উল্লেখ্য ২০২২ সালের ৪ এপ্রিল হাঁসখালিতে এক জন্মদিনের পার্টিতে ডেকে নিয়ে গিয়ে ১৪ বছরের এক নাবালিকাকে গণধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। নির্যাতিতার পরিবারের দাবি ছিল, ধর্ষণের ফলে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে কিশোরীটির মৃত্যু হয়। অভিযোগ ওঠে, কোনো চিকিৎসকের শংসাপত্র বা ডেথ সার্টিফিকেট ছাড়াই তৎকালীন প্রভাবশালী মহলের চাপে তড়িঘড়ি শ্মশানে দেহটি দাহ করে দেওয়া হয়েছিল।
ঘটনার চার দিন পর পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় এফআইআর দায়ের করা হলে রাজ্যজুড়ে আলোড়ন তৈরি হয়। পরবর্তীকালে আদালতের নির্দেশে এই মামলার তদন্তভার হাতে নেয় সিবিআই (CBI)।তদন্ত চলাকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হাঁসখালি মামলা নিয়ে বলে ছিলেন, ‘মেয়েটির লভ অ্যাফেয়ার্স ছিল।’ তাঁর কথায়, ‘পুলিশ এখনও বিষয়টাই জানতে পারেনি। এই যে বারবার দেখাচ্ছে, একটা বাচ্চা মেয়ে নাকি মারা গিয়েছে রেপড হয়ে। আপনি রেপড বলবেন? নাকি প্রেগন্যান্ট বলবেন? না লাভ অ্যাফেয়ার্স বলবেন? মৃত্যুর পিছনে অন্য কোনও কারণ আছে? নাকি কেউ ধরে দু’টো চড় মেরেছে? শরীরটা খারাপ হয়েছে। প্রেমের সম্পর্ক তো ছিলই শুনেছি। বাড়ির লোক, পাড়ার লোকেরাও জানত। এখন যদি কোনও ছেলেমেয়ে, কেউ কারও সঙ্গে প্রেম করে, আমার পক্ষে তাকে আটকানো সম্ভব নয়।’তার এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছিল। ঘটনার প্রেক্ষাপট নিয়ে তাঁর মন্তব্যের কড়া সমালোচনা করেছিল বিরোধী দলগুলি। যদিও দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে আদালতের এই রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন নির্যাতিতার পরিবার ও আইনজীবী মহল।
আইনজ্ঞদের মতে, অপরাধের নৃশংসতা এবং তথ্যপ্রমাণ লোপাটের চেষ্টার বিষয়গুলি বিচারপ্রক্রিয়ায় বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে, যার প্রতিফলন ঘটেছে এই কঠোর সাজায়।
