দুর্গাপুরে ফের রাস্তার ধারে ধস: কনিষ্ক মোড়ে আতঙ্ক, বড় বিপদের আশঙ্কা
নিজস্ব প্রতিনিধি, দুর্গাপুর: বড়সড় দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা পেলেও আতঙ্কে ঘুম উড়েছে দুর্গাপুরবাসীর। বৃহস্পতিবার (বা বর্তমান তারিখ) দুর্গাপুর ইস্পাত নগরীর ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কনিষ্ক মোড় সংলগ্ন প্রধান সড়কের পাশে আচমকা ধস নামায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ ও দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানা (DSP) কর্তৃপক্ষ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এদিন দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানায় যাওয়ার প্রধান সড়কের পাশে প্রথমে একটি ছোট গর্ত লক্ষ্য করা যায়। কিন্তু কিছু বুঝে ওঠার আগেই কয়েক মিনিটের মধ্যে সেই গর্তটি বিশাল আকার ধারণ করে এবং রাস্তার পাশের মাটির অংশ হুড়মুড়িয়ে বসে যেতে শুরু করে। জনবহুল এই রাস্তায় ধস নামার খবর ছড়িয়ে পড়তেই পথচারী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে হুড়োহুড়ি পড়ে যায়।
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে আসে দুর্গাপুর থানার পুলিশ এবং ইস্পাত সংস্থার আধিকারিকরা। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখার পর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তড়িঘড়ি ধস কবলিত এলাকাটি দড়ি দিয়ে ঘিরে (কর্ডন) ফেলা হয়। যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে যাতে কম্পনের ফলে ধস আরও না বাড়ে।
উল্লেখ্য, দুর্গাপুরের এই অঞ্চলে ধস নামার ঘটনা এটাই প্রথম নয়। এর আগে সেকেন্ডারি মোড় এবং সি.আর. দাস–কনিষ্ক সংলগ্ন এলাকাতেও বড় আকারের ধস নেমেছিল। বারবার একই ধরনের ঘটনায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয়রা। বাসিন্দাদের অভিযোগ মাটির নিচে পুরনো খনি বা জলাধারের স্তরে পরিবর্তনের ফলেই এই ধস নামছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। অস্থায়ী মেরামতির বদলে স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়েছেন তারা।রাস্তাটি ইস্পাত কারখানায় যাতায়াতের প্রধান পথ হওয়ায় সবসময় ভারী যানবাহন চলাচল করে, ফলে ঝুঁকি আরও বেশি।
“হঠাৎ করে চোখের সামনে রাস্তা বসে যেতে দেখে আমরা স্তম্ভিত। ভাগ্য ভালো সেই সময় কোনো বড় গাড়ি বা পথচারী ওই নির্দিষ্ট জায়গায় ছিল না। কিন্তু এভাবে চলতে থাকলে যেকোনো দিন বড় বিপর্যয় ঘটতে পারে, বলে জানান— স্থানীয় এক বাসিন্দা।
বর্তমানে এলাকাটি কড়া নজরদারিতে রাখা হয়েছে। ইস্পাত কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ধসের প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখে দ্রুত রাস্তা সংস্কারের কাজ শুরু করা হবে। তবে বর্ষার আগে বা মাটির গভীরের সমস্যা চিহ্নিত না করলে এই আতঙ্ক কাটছে না দুর্গাপুরবাসীর।
