নিজস্ব সংবাদদাতা, দুর্গাপুর: ভোটের রেশ কাটার আগেই ফের রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়াল শিল্পশহরে। তৃণমূলের একটি দলীয় কার্যালয় থেকে বিপুল পরিমাণ সাদা থান, গামছা, লুঙ্গি, ধুতির পাশাপাশি সরকারি প্রকল্পের বালতি উদ্ধারের অভিযোগ ঘিরে তুমুল চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে দুর্গাপুরে। মামরা বাজার এলাকার ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কার্যালয়ের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাসক-বিরোধী তরজা এখন চরমে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। বিজেপির দাবি, ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন পুরমাতা লাভলি রায়ের ওই দলীয় কার্যালয়ে নিয়মবহির্ভূতভাবে বিপুল পরিমাণ সাদা থান ও পোশাক মজুত করে রাখা হয়েছিল। শুধু তাই নয়, রাজ্য সরকারের ‘মিশন নির্মল বাংলা’ প্রকল্পের লোগো দেওয়া বালতিও উদ্ধার হয়েছে ওই কার্যালয় থেকে। পদ্ম শিবিরের আরও অভিযোগ, কেবল পোশাক বা বালতিই নয়, ওই কার্যালয়ের ভিতরে কুড়ুল, কাটারি-সহ একাধিক ধারালো অস্ত্রও মজুত রাখা ছিল। এলাকা জুড়ে অশান্তি ছড়ানোর উদ্দেশ্যেই এই অস্ত্রশস্ত্র জড়ো করা হয়েছিল বলে সরব হয়েছে গেরুয়া শিবির। ঘটনাটি জানাজানি হতেই সোমবার এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়। বিজেপির স্থানীয় নেতৃত্ব ও কর্মীরা ওই কার্যালয়ের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। তাঁদের অভিযোগ, সরকারি খয়রাতির জিনিস এবং নির্দিষ্ট একটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহারের জন্য সাদা থান এভাবে দলীয় কার্যালয়ে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। লোকসভা বা বিধানসভা ভোটের পরবর্তী সময়ে এই সমস্ত সামগ্রী দিয়ে কোনও ‘ষড়যন্ত্র’ রচনার চেষ্টা চলছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে তারা। অবিলম্বে প্রাক্তন পুরমাতা ও স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছে বিজেপি। যদিও সমস্ত অভিযোগই ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে ঘাসফুল শিবির। স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের পাল্টা দাবি—এলাকার দুঃস্থ ও গরিব মানুষদের বিভিন্ন সময়ে বস্ত্রদান করার জন্য ওই ধুতি, লুঙ্গি বা গামছা রাখা হয়েছিল। এর মধ্যে কোনও রাজনীতি নেই।ধারালো অস্ত্র উদ্ধারের দাবিকে সম্পূর্ণ ‘মনগড়া’ এবং ‘মিথ্যা প্রচার’ বলে দেগে দিয়েছে শাসকদল। তাদের দাবি, কার্যালয় পরিষ্কার করার কিছু স্বাভাবিক সরঞ্জামকে অস্ত্র বলে চালানো হচ্ছে।সরকারি বালতি প্রসঙ্গে তাঁদের সাফাই, এলাকার পুরপরিষেবার কাজের জন্য বা সাধারণ মানুষের সুবিধার্থেই ওগুলি আনা হয়েছিল, ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক স্বার্থে নয়। খবর পেয়েই মামরা বাজার এলাকার ওই দলীয় কার্যালয়ে পৌঁছায় দুর্গাপুর থানার বিশাল পুলিশবাহিনী। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ওই সামগ্রীগুলি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। কার্যালয়ের ভেতর থেকে সত্যিই কোনও ধারালো অস্ত্র মিলেছে কি না, বা সরকারি প্রকল্পের সামগ্রী কীভাবে দলীয় কার্যালয়ে এল, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। তবে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মামরা বাজার এলাকায় এখনও চাপা উত্তেজনা রয়েছে। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে এলাকায় পুলিশি টহলদারি বাড়ানো হয়েছে। Share Post Whatsapp Share Post navigation দূষণমুক্ত পরিবেশ ও সুস্থ শরীরের বার্তা, বিশ্ব সাইকেল দিবসে দুর্গাপুরে মহকুমা শাসকের অভিনব সাইকেল র্যালি বিএমএস-এর সভায় বিস্ফোরক বিজেপি বিধায়ক, ‘চাকরি চাইতে আগে যান মণ্ডল সভাপতির কাছে’