সঙ্কেত ডেস্ক:ভারতের শহর ও অঞ্চলের মধ্যে রেল যোগাযোগকে আধুনিক ও দ্রুততর করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিচ্ছে বন্দে ভারত এক্সপ্রেস। ভারতীয় রেল সূত্রে জানা গেছে, ডিসেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত সারা দেশে মোট ১৬৪টি বন্দে ভারত ট্রেন চালু হয়েছে, যা প্রধান করিডোরগুলিতে সংযোগ আরও মজবুত করেছে। রেল মন্ত্রকের লক্ষ্য অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে বন্দে ভারত ট্রেনের সংখ্যা বাড়িয়ে ৮০০ এবং ২০৪৭ সালের মধ্যে প্রায় ৪৫০০-তে পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এরই অংশ হিসেবে ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে দীর্ঘ দূরত্বের রাতের যাত্রার জন্য বন্দে ভারত স্লিপার পরিষেবা শুরু হওয়ার কথা। ভারতের প্রথম সম্পূর্ণ দেশীয়ভাবে নকশা ও নির্মিত আধা-উচ্চগতির ট্রেন হিসেবে বন্দে ভারত এক্সপ্রেস আধুনিক প্রযুক্তি, উন্নত যাত্রীস্বাচ্ছন্দ্য এবং যাত্রাসময় হ্রাসের মাধ্যমে রেল পরিষেবায় নতুন মানদণ্ড তৈরি করেছে। স্বচালিত ট্রেনসেট প্রযুক্তির ফলে দ্রুত গতি তোলা ও থামানো সম্ভব হচ্ছে, যার ফলে মাঝারি দূরত্বের রুটে উল্লেখযোগ্যভাবে সময় সাশ্রয় হচ্ছে। এই ট্রেনে আধা-স্থায়ী কাপলার, উন্নত সাসপেনশন, রিজেনারেটিভ ব্রেকিং ব্যবস্থা এবং দেশীয়ভাবে উন্নত স্বয়ংক্রিয় ট্রেন সুরক্ষা ব্যবস্থা ‘কবচ’ ব্যবহার করা হয়েছে। পাশাপাশি রয়েছে স্বয়ংক্রিয় প্লাগ দরজা, আধুনিক শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, ইউভি-সি ভিত্তিক জীবাণুনাশ ব্যবস্থা, সিসিটিভি নজরদারি, জরুরি অ্যালার্ম ও জিপিএস নির্ভর যাত্রী তথ্য ব্যবস্থা। দিব্যাঙ্গজন-বান্ধব সুবিধা ও বায়ো-ভ্যাকুয়াম শৌচাগারও সংযোজিত হয়েছে। ইন্টিগ্রাল কোচ ফ্যাক্টরিতে প্রায় ৯০ শতাংশ দেশীয় উপাদান ব্যবহার করে নির্মিত এই ট্রেন ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ উদ্যোগের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। শক্তি দক্ষতার জন্য ২০২৪ সালে আইসিএফ জাতীয় শক্তি সংরক্ষণ পুরস্কারও পেয়েছে বন্দে ভারত। রেল সূত্রে আরও জানা গেছে, ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে নির্বাচিত বন্দে ভারত ট্রেনে আঞ্চলিক খাবার পরিবেশন শুরু হয়েছে, যাতে যাত্রীরা বিভিন্ন রাজ্যের ঐতিহ্যবাহী খাবারের স্বাদ নিতে পারেন। উল্লেখ্য, ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ সালে নয়াদিল্লি–বারাণসী রুটে প্রথম বন্দে ভারত এক্সপ্রেস চালু হয়। সাত বছরে এই ট্রেন ২৭৪টি জেলায় সাত কোটিরও বেশি যাত্রী পরিবহণ করেছে এবং বহু রুটে যাত্রাসময় প্রায় ৪৫ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে হাওড়া–গুয়াহাটি রুটে প্রথম বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেন চালু হলে দীর্ঘ দূরত্বের রেল যাত্রায় নতুন দিগন্ত খুলবে বলে আশা রেল কর্তৃপক্ষের। তাদের মতে, বন্দে ভারত এক্সপ্রেস ভারতীয় রেলের আধুনিক, দক্ষ ও যাত্রীকেন্দ্রিক রূপান্তরের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হয়ে উঠেছে। Share Post Whatsapp Share Post navigation গঙ্গাসাগর মেলা ২০২৬ উপলক্ষ্যে বিশেষ ফিলাটেলিক কভার প্রকাশ ডাক বিভাগের পশ্চিমঘাটে নতুন প্রজাতির অন্ধ সিসিলিয়ান আবিষ্কার, ভূগর্ভস্থ জীববৈচিত্র্যে গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন