নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা: উন্নয়নের পথে কি তবে উৎসবই বাধা? না কি স্রেফ প্রশাসনিক অনীহা? চিংড়িঘাটা মেট্রো প্রকল্পের জট কাটাতে গিয়ে সোমবার পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে কার্যত নজিরবিহীন ভর্ৎসনার মুখে পড়তে হলো সুপ্রিম কোর্টে। অরেঞ্জ লাইনের মাত্র ৩৬৬ মিটার কাজ আটকে থাকা নিয়ে রাজ্যের টালবাহানায় চরম বিরক্তি প্রকাশ করে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চের সোজাসাপ্টা প্রশ্ন— “আপনাদের কাছে উৎসব আগে না কি যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি?”
গড়িয়া-সল্টলেক অরেঞ্জ লাইন মেট্রোর ভবিষ্যৎ এখন ঝুলে রয়েছে চিংড়িঘাটার একফালি অংশে। পুলিশি অসহযোগিতা এবং প্রশাসনিক টালবাহানার অভিযোগে বারবার সরব হয়েছে মেট্রো রেল কর্তৃপক্ষ। কলকাতা হাইকোর্ট নির্দেশ দিয়েছিল ৬ জানুয়ারির মধ্যে কাজ শেষ করার নির্দিষ্ট দিনক্ষণ জানাতে। কিন্তু হাইকোর্টের সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে শীর্ষ আদালতে দৌড়েছিল নবান্ন। দাবি ছিল— যানজট হবে, জরুরি পরিষেবা ব্যাহত হবে, তাই মে মাস পর্যন্ত সময় চাই।
সোমবার সুপ্রিম কোর্ট রাজ্যের সেই সমস্ত যুক্তি খড়কুটোর মতো উড়িয়ে দিয়েছে। প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেয়, নির্বাচনী আচরণবিধি বা উৎসবের দোহাই দিয়ে জনস্বার্থবাহী উন্নয়ন প্রকল্প এভাবে অনন্তকাল আটকে রাখা যাবে না। আদালতের পর্যবেক্ষণ, “আমরা প্রথমবার দেখছি কোনো রাজ্য উন্নয়নের বিরোধিতা করছে!” ডিসেম্বরের বৈঠকে রাজ্য জানিয়েছিল তারা উৎসবের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত— নবান্নের এই যুক্তি শুনে কার্যত রণংদেহি মেজাজে ধরা দেয় শীর্ষ আদালত।
সুপ্রিম-কষাঘাতের সারসংক্ষেপ, মে মাস পর্যন্ত সময় চাওয়ার রাজ্যের আর্জি খারিজ। কলকাতা হাইকোর্ট যে সময়সীমা বেঁধে দেবে, তার মধ্যেই কাজ শেষ করতে বাধ্য থাকবে রাজ্য। নির্দিষ্ট সময়ের এক চুল এদিক-ওদিক করা চলবে না।
উল্লেখ্য, এই ৩৬৬ মিটার লাইনের জট না কাটলে পুরো রুটে মেট্রো চালানো অসম্ভব। কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব ইতিপূর্বেই এই দীর্ঘসূত্রিতা নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন। এবার সুপ্রিম কোর্টের এই কড়া অবস্থানের পর নবান্নের পিঠ কার্যত দেওয়ালে ঠেকে গেল। ভোট-আচরণবিধির আড়ালে লুকোনোর জায়গাও আর থাকল না।
ওয়াকিবহাল মহলের মতে, স্রেফ ৩৬৬ মিটারের জন্য একটা গোটা মেট্রো রুট থমকে থাকা শুধু প্রশাসনিক ব্যর্থতা নয়, বরং উন্নয়নের প্রশ্নে রাজ্যের অগ্রাধিকার নিয়েই বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিল সোমবারের সুপ্রিম-শুনানি। এবার দেখার, আদালতের এই ‘ডেডলাইন’ মানতে নবান্ন কতটা তৎপর হয়।