নিজস্ব সংবাদদাতা, দুর্গাপুর: নীল-সাদা বনাম গেরুয়া— ভোটের আগে দুর্গাপুরের রাজনৈতিক সমীকরণ এখন এই দুই রঙের আবর্তেই ঘুরপাক খাচ্ছে। শুক্রবার সকালে দুর্গাপুরের ফুলঝোড় মোড় চত্বর কার্যত থমকে গেল বাইকের চাকায় আর ‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনিতে। উপলক্ষ রামনবমী। কিন্তু সেই ধর্মীয় উন্মাদনার আড়ালে রাজনীতির চোরা স্রোত যে চওড়া হচ্ছে, তা বুঝিয়ে দিলেন দুর্গাপুর পূর্বের বিজেপি প্রার্থী চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায়। মিছিলে পা মিলিয়ে তাঁর সাফ বার্তা, “এ লড়াই শুধু দুই রাজনৈতিক দলের নয়, এবার ময়দানে সরাসরি জনতা বনাম মমতা।”
ফুলঝোড়ে ধর্মীয় উন্মাদনা ও রাজনীতির মেলা
এ দিন রামনবমী উদযাপন কমিটির ডাকে ফুলঝোড় মোড় থেকে এক বর্ণাঢ্য বাইক র্যালির আয়োজন করা হয়েছিল। গেরুয়া পতাকা, ফেস্টুন আর হনুমানজির ছবিতে সেজে ওঠে গোটা এলাকা। শত শত বাইকের গর্জন আর মিছিলে শামিল উৎসাহী কর্মী-সমর্থকদের ভিড়ে সাময়িকভাবে অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে রাস্তা। সেই মিছিলেই বাইকে চেপে সওয়ার হতে দেখা যায় বিজেপি প্রার্থী চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায়কে। তাঁর সঙ্গে ছিলেন স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বের বড় অংশ।
‘আমন্ত্রণ পেয়েই আসা’, সাফাই প্রার্থীর
নির্বাচনী আবহে ধর্মীয় মিছিলে অংশ নেওয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠলে চন্দ্রশেখরবাবু অবশ্য একে অরাজনৈতিক তকমা দিতেই আগ্রহী। তাঁর কথায়, “রামনবমী বা হনুমান জয়ন্তী আমাদের সনাতন ধর্মের অবিচ্ছেদ্য অংশ। এখানে রাজনীতির কোনও জায়গা নেই। উদযাপন কমিটির পক্ষ থেকে আমন্ত্রণ পেয়েই সাধারণ মানুষ হিসেবে এসেছি।” তবে ধর্মকে সামনে রেখেও যে জনসংযোগের অঙ্ক কষা হচ্ছে, তা স্বীকার করে নিয়ে তিনি জানান, এই কর্মসূচির মাধ্যমে মানুষের আরও কাছে যাওয়ার সুযোগ মিলছে।
শাণিত আক্রমণ শাসকদলকে
মিছিল শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সুর চড়ান বিজেপি প্রার্থী। নাম না করে তৃণমূল নেত্রীকে বিঁধে তিনি বলেন, “সময় পাল্টেছে। এক সময় যাঁরা রামের নাম শুনলে কটাক্ষ করতেন, আজ দেখি তাঁরাও মিছিলে আসছেন। মানুষ সব দেখছে। তাই এবারের ভোট বিজেপি বনাম তৃণমূল নয়, এটা মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত লড়াই— জনতা বনাম মমতা।”
বিরোধী শিবিরের এই তৎপরতাকে যদিও ‘ভোটের আগে নাটক’ বলে কটাক্ষ করতে ছাড়ছে না ঘাসফুল শিবির। তবে সব মিলিয়ে ভোটের নির্ঘণ্ট বাজার আগেই রামের নামে শিল্পাঞ্চলের উত্তাপ যে কয়েক গুণ বেড়ে গেল, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই।