চম্পাহাটিতে বাজি কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণ, জখম ৪ শ্রমিক
নিজস্ব প্রতিনিধি, চম্পাহাটি: নতুন বছরের শুরুতেই ফের অগ্নিগর্ভ দক্ষিণ ২৪ পরগনার চম্পাহাটি। শনিবার দুপুরে হাড়াল এলাকায় একটি বাজি কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণে কেঁপে উঠল চারপাশ। এই ঘটনায় চারজন শ্রমিক গুরুতর জখম হয়েছেন। বছরের শুরুতেই এই দুর্ঘটনায় ওই এলাকার বাজি কারখানাগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে ফের বড়সড় প্রশ্ন উঠে গেল।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার দুপুর বারোটা নাগাদ হাড়াল এলাকার ওই কারখানাটিতে আচমকাই একটি বিকট শব্দ হয়। মুহূর্তের মধ্যে এলাকা কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই ছিল যে পাশের বাড়িগুলোও কেঁপে ওঠে। আতঙ্কিত বাসিন্দারা ঘর ছেড়ে রাস্তায় বেরিয়ে আসেন। পরে দেখা যায়, একটি বাজি কারখানার একাংশ ধংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।
প্রাথমিক তদন্ত ও স্থানীয়দের অনুমান, ঘটনার সময় কারখানার ভেতরে পুরোদমে কাজ চলছিল। কারখানায় মজুত থাকা রাসায়নিক ভর্তি একটি ড্রাম আচমকা ফেটে যাওয়ার ফলেই এই বড়সড় বিস্ফোরণ। তবে এটি দুর্ঘটনা নাকি এর পেছনে অন্য কোনো গাফিলতি রয়েছে, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
বিস্ফোরণের সময় কারখানার ভেতরে অন্তত চারজন শ্রমিক কাজ করছিলেন। আগুনের শিখা ও ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে তাঁরা গুরুতর জখম হন। স্থানীয় বাসিন্দারাই উদ্ধার কাজে হাত লাগান এবং দ্রুত তাঁদের নিকটবর্তী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। বর্তমানে সেখানে তাঁদের চিকিৎসা চলছে।
খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছায় বারুইপুর জেলা পুলিশের বিশাল বাহিনী এবং দমকলের একটি ইঞ্জিন। দমকল কর্মীরা দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন যাতে পাশের জনবসতি এলাকায় আগুন ছড়িয়ে না পড়ে। পুলিশ কারখানাটি ঘিরে রেখেছে এবং বাজি তৈরির মশলার নমুনা সংগ্রহের কাজ চলছে।
এদিকে, বাজি ব্যবসায়ীদের সংগঠনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, ওই কারখানায় বৈধ লাইসেন্স মেনেই বাজি তৈরি হচ্ছিল। সমস্ত সুরক্ষা বিধি বজায় রাখা হয়েছিল বলেও তাঁদের দাবি। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কারখানায় অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা পর্যাপ্ত ছিল কি না এবং নিষিদ্ধ কোনো বাজি তৈরি হচ্ছিল কি না, তা বিস্তারিত তদন্তের পর জানানো হবে।