নতুন বছর, নতুন গতি: মোদীর ২০২৫ – এর সংস্কার ভারতের পরবর্তী অগ্রগতির চালিকাশক্তি

পীযূষ গোয়েল:নতুন বছর মানেই নতুন প্রত্যাশা। ২০২৫ সালে ভারতের অর্থনীতি ও বাণিজ্যনীতিতে যে দিকনির্দেশ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে, তা শুধু পরিসংখ্যানের গল্প নয়, বরং একটি দীর্ঘমেয়াদি রূপান্তরের ইঙ্গিত। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে নেওয়া সংস্কারগুলির লক্ষ্য একটাই—ভারতের বৃদ্ধি যেন অন্তর্ভুক্তিমূলক হয়, আত্মনির্ভর হয় এবং একই সঙ্গে বিশ্বমুখী হয়।

স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম এই পরিবর্তনের সবচেয়ে উজ্জ্বল উদাহরণ। সরকার-স্বীকৃত স্টার্টআপের সংখ্যা দুই লক্ষ ছুঁয়েছে, যা শুধু উদ্যোক্তা সংস্কৃতির বিস্তার নয়, বরং সমস্যার বাস্তবসম্মত সমাধান তৈরির এক শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম। কর্মসংস্থান, প্রযুক্তি, পরিষেবা—সব ক্ষেত্রেই এর প্রভাব পড়ছে। এটি স্পষ্ট করে দেয় যে অর্থনৈতিক উন্নয়ন আর কেবল বড় শিল্পের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই।

ব্যবসা করার পরিবেশ সহজ করাও এই সংস্কারের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। সেকেলে আইন বাতিল, ছোটখাটো অপরাধকে অপরাধের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া এবং বন্দর ও জাহাজ সংক্রান্ত আধুনিক আইন—এই পদক্ষেপগুলি উদ্যোক্তাদের ভয়মুক্ত করেছে। ব্যবসা মানে এখন কাগজপত্রের জট নয়, বরং সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাধীনতা ও গতি।

মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির ক্ষেত্রেও নীতিগত স্পষ্টতা লক্ষণীয়। ‘লোকাল ফর গ্লোবাল’ ভাবনাকে সামনে রেখে উন্নত দেশগুলির সঙ্গে চুক্তি করে সরকার ভারতীয় পণ্যের জন্য নতুন বাজার খুলেছে, অথচ কৃষি ও ডেয়ারি ক্ষেত্রের স্বার্থেও আপস করেনি। এর ফলে কর্মসংস্থান, বিনিয়োগ এবং প্রযুক্তি আদানপ্রদানের সুযোগ বাড়ছে।

বিদেশি বিনিয়োগের পরিসংখ্যান এই আস্থারই প্রতিফলন। গত এক দশকে প্রায় আড়াই গুণ বেশি প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ এসেছে, যা একসময় ‘ফ্র্যাজাইল ফাইভ’ তকমা পাওয়া অর্থনীতির জন্য বড় সাফল্য। শৃঙ্খলাবদ্ধ আর্থিক নীতি ও দুর্নীতিমুক্ত শাসন যে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে পারে, ভারত তার উদাহরণ।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, এই সংস্কারের সুফল দরিদ্র ও প্রান্তিক মানুষের কাছে পৌঁছনোর চেষ্টা। শ্রম সংস্কার, জিএসটি কাঠামোর সরলীকরণ এবং সামাজিক সুরক্ষার উপর জোর দেখায় যে উন্নয়ন শুধু জিডিপির সংখ্যা বাড়ানো নয়, জীবনযাত্রার মান উন্নত করার প্রশ্নও।

২০২৫ সালকে তাই একটি সেতুবছর বলা যায়—দেশীয় সম্ভাবনা ও বিশ্ববাজারের মধ্যে, নীতিগত সংস্কার ও ডিজিটাল ক্ষমতায়নের মধ্যে। সামনে চ্যালেঞ্জ থাকবে, কিন্তু দিকনির্দেশ স্পষ্ট। একটি প্রতিযোগিতামূলক, উদ্ভাবনী এবং আত্মবিশ্বাসী ভারত গড়ার পথে এই সংস্কারগুলি শুধু গতি নয়, স্থায়িত্বও দিচ্ছে।
লেখক @ কেন্দ্রীয় শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রী

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *