নরমাংস খাওয়ার বিকৃত আকাঙ্ক্ষায় ভবঘুরেকে খুন, গ্রেপ্তার যুবক

সঙ্কেত ডেস্ক:নরমাংস খাওয়ার বিকৃত বাসনা মেটাতেই এক মানসিক ভারসাম্যহীন ভবঘুরে ব্যক্তিকে খুন করার অভিযোগে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযুক্তের স্বীকারোক্তিতে হতবাক তদন্তকারীরাও। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে গত ১০ জানুয়ারি, শনিবার বিকেলে।
ভোনাথপুর এলাকায় এক অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির গলাকাটা, রক্তাক্ত দেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয় বাসিন্দারা পুলিশে খবর দেন। মৃত ব্যক্তি ওই এলাকায় মানসিক ভারসাম্যহীন ভবঘুরে হিসেবেই পরিচিত ছিলেন। খবর পেয়ে নয়ারহাট ফাঁড়ির পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। খুনের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রথমে ধন্দে পড়ে যায় পুলিশ।তদন্তে নেমে মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই গোপন সূত্র ও পারিপার্শ্বিক তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে ফিরদৌস আলম নামে এক স্থানীয় যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়। থানায় এনে জেরা শুরু করতেই সামনে আসে ভয়াবহ তথ্য। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, জেরার মুখে ভেঙে পড়ে অভিযুক্ত স্বীকার করে যে, নিহত ব্যক্তির সঙ্গে তার কোনও ব্যক্তিগত শত্রুতা ছিল না এবং লুঠপাটের উদ্দেশ্যেও খুন করা হয়নি।

অভিযুক্ত ফিরদৌস পুলিশকে জানায়, তার একমাত্র উদ্দেশ্য ছিল মানুষের মাংস খাওয়া। সমাজের মূল স্রোত থেকে বিচ্ছিন্ন ওই ভবঘুরেকে সে ‘সহজ শিকার’ হিসেবে বেছে নেয়। তার দাবি, ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে খুন করার পর মৃতদেহটি টেনে একটি কলপাড়ের কাছে নিয়ে গিয়েছিল। সেখানে দেহ ধুয়ে মাংস ভক্ষণ করার পরিকল্পনা ছিল তার। তবে স্থানীয়দের আনাগোনার কারণে সেই পরিকল্পনা শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হয়নি।

দিনহাটার এসডিপিও ধীমান মিত্র সংবাদমাধ্যমকে জানান, “এটি অত্যন্ত বিরল ও ভয়াবহ ঘটনা। প্রথমে খুনের উদ্দেশ্য স্পষ্ট ছিল না। জেরার পর যে তথ্য উঠে এসেছে, তা আমাদেরও স্তম্ভিত করেছে। অভিযুক্ত নেশাগ্রস্ত ছিল বলে প্রাথমিকভাবে জানা যাচ্ছে। আদালত তাকে চার দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে। খুনে ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।”

এদিকে চিকিৎসকদের মতে, দীর্ঘদিনের অতিরিক্ত মাদকাসক্তির ফলে মানুষের স্বাভাবিক বিচারবুদ্ধি লোপ পেতে পারে। কোচবিহার এমজেএন মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের ক্ষেত্রে ‘ক্যানিবালিস্টিক’ বা নরখাদক প্রবৃত্তি জেগে ওঠার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। অভিযুক্ত যুবকও হয়তো মাদকের প্রভাবে মানসিক ভারসাম্য হারিয়েই এমন পৈশাচিক কাণ্ড ঘটিয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *