পশ্চিমঘাটে নতুন প্রজাতির অন্ধ সিসিলিয়ান আবিষ্কার, ভূগর্ভস্থ জীববৈচিত্র্যে গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন
সঙ্কেত ডেস্ক: পশ্চিমঘাটের মহারাষ্ট্র অংশে এক বিরল ও ভূগর্ভে বসবাসকারী উভচর প্রাণীর নতুন প্রজাতি আবিষ্কার করেছেন ভারতীয় বিজ্ঞানীরা। নতুন এই প্রজাতির নাম রাখা হয়েছে Gegeneophis valmiki। এক দশকেরও বেশি সময় পরে Gegeneophis বর্গে এটি প্রথম নতুন প্রজাতির সন্ধান, যা তথাকথিত “লুকিয়ে থাকা উভচর প্রাণী” সম্পর্কে নতুন তথ্য সামনে আনল।
ভারতের প্রাণী সর্বেক্ষণ সংস্থার (ZSI) বিজ্ঞানী ড. কে. পি. দীনেশের নেতৃত্বে গবেষক দলটি ২০১৭ সালে মহারাষ্ট্রের সাতারা জেলার বাল্মিকী মালভূমি অঞ্চল থেকে প্রথম এই প্রজাতির নমুনা সংগ্রহ করেন। আবিষ্কারের স্থান সংলগ্ন ঐতিহাসিক মহর্ষি বাল্মীকী মন্দিরের নাম অনুসারেই প্রজাতিটির নামকরণ করা হয়েছে। গবেষণার ফলাফল আন্তর্জাতিক বিজ্ঞানপত্রিকা Phyllomedusa-তে প্রকাশিত হয়েছে। এই গবেষণা ZSI, সাবিত্রীবাই ফুলে পুনে বিশ্ববিদ্যালয়, বলাসাহেব দেশাই কলেজ এবং মহাদেয় গবেষণা কেন্দ্রের যৌথ উদ্যোগে সম্পন্ন হয়।
সিসিলিয়ানরা অঙ্গহীন, কেঁচোর মতো দেখতে উভচর প্রাণী, যারা মূলত মাটির গভীরে ও জৈব পদার্থের মধ্যে বসবাস করে। এরা কোনও ডাক বা শব্দ না করায় প্রকৃতিতে এদের উপস্থিতি শনাক্ত করা অত্যন্ত কঠিন। সাধারণভাবে ‘অন্ধ সিসিলিয়ান’ নামে পরিচিত এই প্রাণীদের চোখ শক্ত খোলকের নিচে ঢাকা থাকে।
ড. দীনেশ জানান, Gegeneophis বর্গের প্রজাতি চিহ্নিত করা অত্যন্ত জটিল। নতুন প্রজাতি হিসেবে নিশ্চিত করতে দীর্ঘ সময় ধরে গঠনগত ও জিনগত বিশ্লেষণ করতে হয়েছে।
বিশ্বজুড়ে বর্তমানে ৮,৯৮৩টি উভচর প্রজাতির মধ্যে মাত্র ২৩১টি সিসিলিয়ান। ভারতে নথিভুক্ত ৪৫৭টি উভচরের মধ্যে সিসিলিয়ান প্রজাতি ৪২টি। এর মধ্যে পশ্চিমঘাটে ২৬টি স্থানীয় বা এন্ডেমিক প্রজাতি রয়েছে, যার ১১টিই Gegeneophis গোষ্ঠীর। সাধারণভাবে দক্ষিণ পশ্চিমঘাটে উভচরের বৈচিত্র্য বেশি হলেও, এই আবিষ্কার উত্তর পশ্চিমঘাটে এই গোষ্ঠীর উল্লেখযোগ্য উপস্থিতির ইঙ্গিত দিচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সিসিলিয়ানরা পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এদের গর্ত খোঁড়ার ফলে মাটির গঠন উন্নত হয় এবং কৃষিজমির উর্বরতা বাড়ে। একই সঙ্গে এরা খাদ্যশৃঙ্খলের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
ZSI–এর অধিকর্তা ড. ধৃতি বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, বিশ্বজুড়ে প্রায় ৪১ শতাংশ উভচর প্রজাতি বর্তমানে বিলুপ্তির ঝুঁকিতে রয়েছে। সময়মতো এই প্রজাতিগুলিকে নথিভুক্ত ও সংরক্ষণ না করা হলে বহু প্রজাতি নীরবে বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারে।
সংরক্ষণবিদদের মতে, এই আবিষ্কার ভবিষ্যতে আরও গবেষণার পথ খুলে দিল। প্রাথমিক বংশগত গবেষণা ইঙ্গিত দিচ্ছে, উত্তর পশ্চিমঘাটে এখনও বহু অজানা উভচর প্রজাতি লুকিয়ে থাকতে পারে। বৈজ্ঞানিক স্বীকৃতির মাধ্যমে এই বিরল প্রাণীদের সংরক্ষণ ও তাদের স্পর্শকাতর আবাসভূমি রক্ষার উদ্যোগ জোরদার করা সম্ভব হবে বলে মত বিশেষজ্ঞদের।