পালিত হল দিল্লি পাবলিক স্কুল, দুর্গাপুরের দ্বাদশতম বার্ষিক ক্রীড়া দিবস
নিজস্ব প্রতিনিধি,দুর্গাপুর, ২৪-শে ডিসেম্বর ২০২৫:
দিল্লি পাবলিক স্কুল, দুর্গাপুরের ১২তম বার্ষিক ক্রীড়া দিবস শনিবার, ২৪-শে ডিসেম্বর, দুর্গাপুরের শহীদ ভগৎ সিং ক্রীড়াঙ্গনে অত্যন্ত জাঁকজমক ও সুন্দর ব্যবস্থাপনার মধ্য দিয়ে তা উদযাপিত হয়।। এই অনুষ্ঠান বিদ্যালয়ের ক্রীড়া উৎকর্ষতা ও সর্বাঙ্গীণ শিক্ষার প্রতি দৃঢ় অঙ্গীকারকে আরও একবার সুপ্রতিষ্ঠিত করে।
অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি অরুন লাল—প্রখ্যাত প্রাক্তন ভারতীয় ক্রিকেটার, যিনি ক্রিকেট জগতে তাঁর অসামান্য কৃতিত্বের জন্য জাতীয় স্তরে সমাদৃত। ব্যবস্থাপনা পর্ষদের বিশিষ্ট অতিথিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ওম দয়াল এডুকেশনাল অ্যান্ড রিসার্চ সোসাইটি-র সচিব সাগর আগরওয়াল এবং কোষাধ্যক্ষা শ্রীমতী নাতাশা আগরওয়াল।
মাননীয় প্রধান অতিথি শ্রী অরুনলাল মহাশয়ের বক্তৃতা ছিল অত্যন্ত প্রেরণাদায়ক—যিনি তাঁর অদম্য মানসিক দৃঢ়তা ও অধ্যবসায়ের জন্য সুপরিচিত — তরুণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে সহনশীলতা, নেতৃত্বগুণ ও দৃঢ় নৈতিক ভিত্তি গঠনে খেলাধুলার অপরিহার্য ভূমিকার ওপর আলোকপাত করেন। ক্রিকেট মাঠে তাঁর নিজস্ব অভিজ্ঞতার উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, খেলাধুলার শৃঙ্খলা কেবল মাঠের সীমানার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং তা জীবনের বহুমুখী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় চরিত্র ও মানসিক শক্তি গঠনে সহায়ক।
বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ উমেশ চন্দ জয়সওয়াল ছাত্র-ছাত্রীদের উদ্দেশ্যে তাঁর বক্তব্যে বলেন, শৃঙ্খলাবদ্ধ শারীরিক শিক্ষা আত্মবিশ্বাসী, দায়িত্বশীল ও সামাজিক দায়িত্ব সম্পন্ন নাগরিক গঠনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ক্রীড়াপ্রেমী সাগর আগরওয়াল তাঁর ভাষণে খেলার মাঠকে আখ্যা দেন “দেয়ালবিহীন শ্রেণিকক্ষ” হিসেবে, যেখানে পাঠ্যসূচিতে থাকে সহনশীলতা, শৃঙ্খলা, দলগত কাজ এবং জয়-পরাজয় সমানভাবে গ্রহণ করার কথা।
এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের প্রধান আকর্ষণ ছিল গতি, প্রবাহমানতা, চঞ্চলতা ও শৌর্যের অর্থবাহী বিদ্যালয়ের চারটি হাউজের ঐক্যবদ্ধ মার্চপাস্ট। প্রতিটি হাউজের শিক্ষার্থীরা হাউজের নিজস্ব উজ্জ্বল রঙে সজ্জিত হয়ে সমবেতভাবে নিখুঁত সমন্বয় ও শৃঙ্খলা পূর্ণ কদমতালে তাদের অনবদ্য পারদর্শিতা প্রদর্শন করে। এই মার্চপাস্টের নেতৃত্ব দেয় বিদ্যালয়ের প্রধান ছাত্র রেওয়ান্ত কোট্রিওয়ালা এবং প্রধান
ছাত্রী সোহানা রায় বর্মণ।
সকলের মনকে কানায় কানায় আনন্দে পরিপূর্ণ করে তুলতে এবং অনুষ্ঠানকে সুন্দর করে তুলতে এক মনোমুগ্ধকর উদ্বোধনী সংগীতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। যেখানে ছিল প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের সুরের অপূর্ব মেল বন্ধন। যা উপস্থিত দর্শকদের সাহস ও আত্মবিশ্বাস নিয়ে নিজের পথে এগিয়ে যাওয়ার বার্তা দেয়। শীতের আমেজ ছড়িয়ে বর্ণময় বিভিন্ন অনুষ্ঠানের সাথে সমানতালে এগিয়ে চলে নানাবিধ প্রতিযোগিতা। যা শিক্ষার্থীদের কঠোর প্রশিক্ষণ ও ক্রীড়াসুলভ মানসিকতার প্রতিফলন ঘটায়।
বেলা বাড়ার সাথে উষ্ণতার পারদ চড়ার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়ে ওঠে উত্তেজনা। এই অনুষ্ঠানের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিল মনিপুরী মার্শাল আর্টের নৃত্যরূপ “থাংতা – সোর্ড অফ সিম্ফনি”, যেখানে ছন্দ ও গতির সমন্বয়ে ঐতিহ্য জীবন্ত হয়ে ওঠে সমবেত তলোয়ার নৃত্যের মাধ্যমে। এছাড়াও চার্লি চ্যাপলিন নৃত্য, ফিটনেস ফিয়েস্তা, যোগ ও কারাতে প্রদর্শনী দর্শকদের মুগ্ধ করে। বুলবুল গার্লস স্কাউট গ্রুপ ভারতের সশস্ত্র বাহিনীর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে একটি ছন্দোময় পরিবেশনা উপস্থাপন করে।
প্রায় ১,৯০০ শিক্ষার্থীর উৎসাহপূর্ণ অংশগ্রহণে অনুষ্ঠানটি প্রাণবন্ত ও আনন্দদায়ক হয়ে ওঠে। অভিভাবকেরা উৎসাহভরে ক্রীড়াবিদদের সমর্থন জানান, করতালি দিয়ে তাদের উৎসাহিত করেন এবং শারীরিক সুস্থতা, শৃঙ্খলা ও সর্বাঙ্গীণ বিকাশে বিদ্যালয়ের নিরবচ্ছিন্ন প্রচেষ্টার ভূয়সী প্রশংসা করেন। অভিভাবকদের সক্রিয় উপস্থিতি ও উৎসাহ বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের এই অনুষ্ঠানের অংশীদারিত্বকে আরও সুদৃঢ় করে।
অনুষ্ঠানের অন্তিমে পুরস্কার বিতরণীর পালা। প্রধান অতিথি ও অন্যান্য বিশিষ্ট অতিথি বৃন্দ বিজয়ীদের হাতে পদক তুলে দেন। বালক বালিকা বিভাগের সেরা প্রতিযোগী, সাজসজ্জা, মার্চপাস্টের সেরা প্রতিযোগী ও শ্রেষ্ঠ হাউস পরিবেষ্টকদের সম্মানীয় সামগ্রিক চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি প্রদান করা হয়। যা ছাত্রছাত্রীদের অসাধারণ দলগত প্রচেষ্টা ও ক্রীড়াসুলভ চেতনাকে সম্মান জানায়।
১২তম বার্ষিক ক্রীড়া দিবসের সমাপ্তি ঘটে সহযোগী প্রধান ছাত্র শীর্ষেন্দু দাসের আনুষ্ঠানিক ধন্যবাদ জ্ঞাপনের মাধ্যমে। এরপর জাতীয় সংগীত পরিবেশনের সঙ্গে সঙ্গে অনুষ্ঠানটি ঐক্য, শৃঙ্খলা ও ক্রীড়া উৎকর্ষতার এক স্মরণীয় বার্তা রেখে শেষ হয়।অনুষ্ঠানের সমাপ্তি পর্বে শিক্ষার্থীরা সমবেতভাবে ভবিষ্যতে ক্রীড়াক্ষেত্রে আরও উচ্চতর উৎকর্ষ সাধনের শপথ গ্রহণ করে, শৃঙ্খলা, নিষ্ঠা ও নিরবচ্ছিন্ন উন্নতির প্রতি তাদের অঙ্গীকার গ্রহণ করে।
