বাংলাদেশে একের পর এক হিন্দু নিধন, কড়া বার্তা ভারতের
সঙ্কেত ডেস্ক: বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দুদের উপর একের পর এক হিংসাত্মক ঘটনার প্রেক্ষিতে কড়া বার্তা দিল ভারত। চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সংখ্যালঘু নির্যাতন নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার ও মহম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বাধীন প্রশাসনের সমালোচনা করল ভারতের বিদেশ মন্ত্রক।
শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর ২০২৫) বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, “বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে যে হিংসা ঘটছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং কোনওভাবেই উপেক্ষা করা যায় না।” তিনি দীপু দাসের হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।
বিদেশ মন্ত্রকের দাবি, অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে বাংলাদেশে প্রায় ২,৯০০টি হিংসাত্মক ঘটনার তথ্য সামনে এসেছে। এই ঘটনাগুলির মধ্যে হত্যা, অগ্নিসংযোগ এবং জমি দখলের মতো গুরুতর অপরাধের অভিযোগ রয়েছে। মন্ত্রকের মতে, এই ঘটনাগুলিকে শুধুমাত্র রাজনৈতিক হিংসা বলে এড়িয়ে যাওয়া যায় না।
এদিকে, আগামী ফেব্রুয়ারি ২০২৫-এ বাংলাদেশে সাধারণ নির্বাচন হওয়ার কথা। সেই প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট পার্টি (বিএনপি) ফের সক্রিয় হয়ে উঠেছে। দীর্ঘ ১৭ বছর পর বিএনপির কার্যনির্বাহী সভাপতি ও প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার পুত্র তারেক রহমান ঢাকায় প্রত্যাবর্তন করেছেন। রাজনৈতিক মহলের একাংশ তাঁকে সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসেবেও দেখছে।
এই প্রেক্ষিতে বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র বলেন, “ভারত চায় বাংলাদেশে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হোক। দুই দেশের জনগণের মধ্যে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে ভারত প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বাংলাদেশে শান্তি ও স্থিতিশীল পরিবেশ বজায় থাকুক, যাতে সব রাজনৈতিক পক্ষ নির্বাচনে অংশ নিতে পারে এবং সাধারণ মানুষের কণ্ঠস্বর প্রতিফলিত হয়।”
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে একের পর এক হিন্দু যুবকের হত্যাকাণ্ড দেশজুড়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। অভিযোগ, দীপু দাস নামে এক যুবককে হত্যা করে তাঁর দেহ গাছে ঝুলিয়ে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়। এর পর অমৃত মণ্ডল ওরফে সম্রাট নামে আরও এক যুবককে পিটিয়ে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে।
এই ঘটনাগুলিকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার এবং মহম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বাধীন প্রশাসনের বিরুদ্ধে ভারতের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মহলেও সমালোচনা ও প্রতিবাদ জোরালো হয়েছে। কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ ক্রমশ বাড়ছে।
