সঙ্কেত ডেস্ক: বিশ্বজুড়ে যুদ্ধের দামামা, আর তার আঁচ এসে পড়ছে আমজনতার হেঁশেলে। পশ্চিম এশিয়ার অশান্তিতে গত এক মাসে অপরিশোধিত তেলের দাম এক ধাক্কায় প্রায় ৭৫ শতাংশ বেড়ে আকাশছোঁয়া। ব্যারেল প্রতি ৭০ ডলারের তেল এখন ১২২ ডলার ছুঁইছুঁই। এই অগ্নিমূল্য বাজারে ভারতের সাধারণ মানুষকে স্বস্তি দিতে বড়সড় পদক্ষেপ করল কেন্দ্র। এক ধাক্কায় পেট্রল ও ডিজেলে লিটার প্রতি ১০ টাকা শুল্ক (Excise Duty) কমানোর সিদ্ধান্ত নিল নরেন্দ্র মোদী সরকার।
দাম কমছে না কেন?
তবে শুল্ক কমলেও এখনই পাম্পে তেলের দাম কমছে না। কেন? সরকারি সূত্রের ব্যাখ্যা, বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়লেও ভারতে রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলি— ইন্ডিয়ান অয়েল, ভারত পেট্রোলিয়াম ও হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়াম— লোকসান সহ্য করেও সাধারণ মানুষের জন্য দাম বাড়ায়নি। বর্তমানে পেট্রলে লিটার প্রতি ২৬ টাকা এবং ডিজেলে প্রায় ৮২ টাকা লোকসান (Under-recovery) দিচ্ছে এই সংস্থাগুলি। প্রতিদিন যার অঙ্ক দাঁড়ায় প্রায় ২৪০০ কোটি টাকা। সরকারের এই ১০ টাকা শুল্ক ছাড় সরাসরি সেই লোকসানের বোঝা কিছুটা হালকা করবে, যাতে সংস্থাগুলি তেলের জোগান স্বাভাবিক রাখতে পারে।
বিশ্ব বনাম ভারত
কেন্দ্রীয় পেট্রলিয়াম মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী জানিয়েছেন, বিশ্বের অন্য দেশগুলি যখন যুদ্ধের দোহাই দিয়ে হু হু করে তেলের দাম বাড়িয়েছে, ভারত তখন উল্টো পথে হেঁটেছে। পরিসংখ্যান বলছে, গত কয়েক মাসে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় তেলের দাম বেড়েছে ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ, উত্তর আমেরিকায় ৩০ শতাংশ এবং ইউরোপে ২০ শতাংশ। কিন্তু ভারত নিজের অবস্থানে অনড়। মন্ত্রী বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর কাছে দুটো রাস্তা ছিল। হয় অন্য দেশের মতো দাম বাড়িয়ে সাধারণ মানুষের ওপর বোঝা চাপানো, নয়তো রাজকোষের ক্ষতি স্বীকার করে নাগরিককে সুরক্ষা দেওয়া। মোদীজি দ্বিতীয় রাস্তাটিই বেছে নিয়েছেন।”
রফতানিতে রাশ
শুধুমাত্র শুল্ক ছাড় নয়, দেশের বাজারে ডিজেলের জোগান নিশ্চিত করতে আরও একটি কড়া পদক্ষেপ করেছে কেন্দ্র। চালু করা হয়েছে ‘রফতানি লেভি’ (Export Levy)। বিশ্ববাজারে ডিজেলের দাম চড়া হওয়ায় সংস্থাগুলি যাতে লাভের আশায় দেশের বাইরে তেল পাঠিয়ে না দেয়, তা নিশ্চিত করতেই এই সিদ্ধান্ত। মুনাফার চেয়ে দেশের পাম্পগুলিতে তেলের জোগান বজায় রাখাকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছে দিল্লি।
২০২২-এর রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সময়ও কেন্দ্র একই ভাবে কর কমিয়ে আমজনতাকে ঢাল হয়ে রক্ষা করেছিল। এবারও পশ্চিম এশিয়ার উত্তপ্ত পরিস্থিতির মুখে দাঁড়িয়ে সরকারের বার্তা স্পষ্ট— বিশ্বের গোলমালের মাসুল যেন ভারতের নাগরিক বা শিল্পমহলকে দিতে না হয়। আপাতত দাম না কমলেও, বিশ্ববাজারের অস্থিরতার মধ্যেও তেলের দাম স্থির বা ‘স্টেবিলিটি’ বজায় রাখাই কেন্দ্রের আসল লক্ষ্য।