অবৈধ কাঁচা পাট মজুতের বিরুদ্ধে বড় অভিযান, প্রায় ১০ হাজার কুইন্টাল পাট বাজেয়াপ্ত

সঙ্কেত ডেস্ক: কাঁচা পাটের অবৈধ মজুত ও কালোবাজারির বিরুদ্ধে বড়সড় পদক্ষেপ নিল পাট কমিশনারের দপ্তর। পশ্চিমবঙ্গের একাধিক জেলায় চালানো ধারাবাহিক তল্লাশি অভিযানে প্রায় ১০,০০০ কুইন্টাল বেআইনিভাবে মজুত করা কাঁচা পাট বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।পাট ও পাটবস্ত্র নিয়ন্ত্রণ নির্দেশ, ২০১৬ অনুযায়ী এই অভিযান চালানো হয়। বাজারে কৃত্রিমভাবে দাম বাড়ানোর উদ্দেশ্যে কিছু ব্যবসায়ী, বেলার ও মজুতদার কাঁচা পাট জমা করে রেখেছে—এমন তথ্যের ভিত্তিতে তল্লাশি শুরু হয়।

পাট ও পাটবস্ত্র নিয়ন্ত্রণ নির্দেশের ৯ নম্বর ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতা ব্যবহার করে পাট কমিশনারের অনুমোদিত আধিকারিকরা মালদা, মুর্শিদাবাদ, উত্তর ২৪ পরগনা ও নদিয়া জেলার বিভিন্ন গুদাম ও সম্ভাব্য স্থানে তল্লাশি চালান। অভিযানে মোট ১৬টি গুদাম থেকে বিপুল পরিমাণ কাঁচা পাট উদ্ধার করা হয়, যা পাটকলগুলির জন্য নির্ধারিত সর্বোচ্চ মজুত সীমা অনেকটাই ছাড়িয়ে গিয়েছিল।পাটকলগুলিতে ন্যায্য কাঁচামাল সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং হাজার হাজার মিল শ্রমিকের জীবিকা রক্ষাই এই অভিযানের মূল উদ্দেশ্য বলে জানানো হয়েছে।

এদিকে, অবৈধ মজুতদারদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপের প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। অপরাধীদের বিরুদ্ধে অত্যাবশ্যক পণ্য আইন, ১৯৫৫-এর ধারা ৭ অনুযায়ী মামলা রুজুর জন্য পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের এনফোর্সমেন্ট শাখায় অভিযোগ পাঠানো হচ্ছে। পাশাপাশি বাজেয়াপ্ত পণ্যের বিস্তারিত রিপোর্ট সংশ্লিষ্ট জেলার জেলাশাসকদের কাছে পাঠানো হচ্ছে, যাঁদের কাছে আইন অনুযায়ী বাজেয়াপ্তির ক্ষমতা রয়েছে।

এছাড়া, পাট ও পাটবস্ত্র নিয়ন্ত্রণ নির্দেশ, ২০১৬-এর ধারা ১২ অনুযায়ী পাট কমিশনার পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের এনফোর্সমেন্ট শাখা ও কলকাতা পুলিশের আধিকারিকদের ভবিষ্যতেও এ ধরনের তল্লাশি ও বাজেয়াপ্ত অভিযান চালানোর অনুমোদন দিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *