আইপ্যাক কর্তার বাড়িতে ইডি তল্লাশি, ঘটনাস্থলে মুখ্যমন্ত্রী, শুভেন্দুর বিস্ফোরক প্রতিক্রিয়া

সঙ্কেত ডেস্ক: দিল্লির একটি আর্থিক প্রতারণা মামলার সূত্র ধরে আইপ্যাক কর্তা প্রতীক জৈনের বাড়িতে তল্লাশি চালাল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। মঙ্গলবার সকালে শুরু হওয়া এই তল্লাশির মধ্যেই ঘটনাস্থলে পৌঁছে যান কলকাতার পুলিশ কমিশনার মনোজ ভার্মা। কিছুক্ষণ পর সেখানে হাজির হন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও।তল্লাশির সময় মুখ্যমন্ত্রী প্রতীক জৈনের বাড়িতে প্রবেশ করেন এবং পরে সবুজ রঙের একটি ফাইল হাতে নিয়ে সেখান থেকে বেরিয়ে আসেন। বেরিয়ে এসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেন্দ্রীয় সরকার ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বিরুদ্ধে তীব্র অভিযোগ তোলেন। তাঁর দাবি, বিজেপির স্বার্থে দলের স্ট্র্যাটেজি, প্রার্থী তালিকা ও রাজনৈতিক পরিকল্পনার হার্ড ডিস্ক হাতিয়ে নিতেই এই তল্লাশি চালানো হয়েছে।মুখ্যমন্ত্রী এরপর গডরেজ ওয়াটার সাইডে আইপ্যাকের অফিসেও যান।

মুখ্যমন্ত্রীর এই পদক্ষেপ নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেন রাজ্য বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, ইডির উচিত আইন মেনে এবার মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেওয়া।শুভেন্দু অধিকারীর অভিযোগ,“মুখ্যমন্ত্রী আগেও একাধিকবার কেন্দ্রীয় সংস্থার কাজে হস্তক্ষেপ করেছেন। ২০২১ সালে নিজাম প্যালেসে ধরনায় বসেছিলেন ফিরহাদ হাকিম, সুব্রত মুখোপাধ্যায়, শোভন চট্টোপাধ্যায় ও মদন মিত্রের গ্রেফতারির প্রতিবাদে। তার আগেও সারদা মামলায় রাজীব কুমারের বাড়িতে তল্লাশির সময় ধর্মতলায় ধরনায় বসেছিলেন।”
তিনি আরও বলেন,“এই ধরনের কাজ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের কাজে হস্তক্ষেপ এবং তদন্তে বাধা দেওয়া। একজন মুখ্যমন্ত্রী শুধু রাজনৈতিক নেতা নন, তিনি প্রশাসনিক প্রধানও। ইডি নিশ্চয়ই ক্ষমতাবলে মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে বলে আমার মনে হয়।”শুভেন্দুর দাবি,“মুখ্যমন্ত্রী ও সিপির এই ঘটনাস্থলে যাওয়া অসাংবিধানিক ও অনৈতিক। এটি তদন্তে সরাসরি বাধাদানের সামিল।”এই ঘটনার পর রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র চাপানউতোর শুরু হয়েছে। কেন্দ্র ও রাজ্যের সংঘাত আরও একবার সামনে চলে এসেছে বলেই মত রাজনৈতিক মহলের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *