আইপ্যাক-কাণ্ডে রাজপথে মমতা, ‘নিজেকেই খুন করলেন মুখ্যমন্ত্রী’ তীব্র কটাক্ষ শমীকের
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কয়লা পাচার মামলায় তৃণমূলের ভোটকুশলী সংস্থা আইপ্যাকের (I-PAC) অফিসে ইডির তল্লাশিকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে নজিরবিহীন সংঘাত তৈরি হয়েছে। একদিকে যখন ইডির বিরুদ্ধে নথিপত্র ‘লুঠ’ করার অভিযোগ তুলে খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজপথে নামছেন, তখন পাল্টা আক্রমণ শানিয়ে বিজেপি রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য দাবি করলেন, এই আচরণের মাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রী ‘নিজেকেই রাজনৈতিকভাবে খুন করেছেন’।
বৃহস্পতিবার আইপ্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়ি ও সেক্টর ফাইভের দপ্তরে কেন্দ্রীয় এজেন্সির তল্লাশি নিয়ে সরব হন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, এটি তদন্ত নয় বরং দলের রাজনৈতিক রণকৌশল হাতানোর ছক। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমার দলের সব হার্ডডিস্ক, প্রার্থী তালিকা, কৌশল ও পরিকল্পনা নিতে এসেছিল ইডি। এটা কি ইডির দায়িত্ব? নাকি অমিত শাহের দায়িত্ব?”
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে তীব্র আক্রমণ করে তিনি আরও বলেন, “সবথেকে কদর্য ও দুষ্টু স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। ফাঁকা অফিসে ফরেন্সিক টিম এনে ল্যাপটপ থেকে তথ্য পাচার করা হয়েছে। এটা অপরাধ। নির্বাচন সংক্রান্ত সব নথি লুঠ করা হয়েছে।” এই ঘটনার প্রতিবাদে ইতিমধ্যে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে এবং আজ যাদবপুর ৮বি থেকে হাজরা পর্যন্ত প্রতিবাদ মিছিলের ডাক দিয়েছেন তৃণমূল সুপ্রিমো।
মুখ্যমন্ত্রীর এই সক্রিয়তাকে তীব্র কটাক্ষ করেছেন বঙ্গ বিজেপির সভাপতি তথা সাংসদ শমীক ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী মিছিল করতেই পারেন, সেই অধিকার তাঁর আছে। কিন্তু কাল গোটা দেশ দেখেছে একজন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী কোথায় নেমে যেতে পারেন। মুখ্যমন্ত্রী নিজেই নিজেকে রাজনৈতিকভাবে খুন করলেন।”
শমীকের দাবি, সংবিধানের শপথ নেওয়া একজন ব্যক্তির কাছ থেকে এমন আচরণ প্রত্যাশিত নয়। তিনি আরও বলেন, “তৃণমূল কংগ্রেস যে দুর্নীতির সমার্থক এবং তারা যে দুর্নীতিতে সম্পূর্ণ সম্পৃক্ত, তা মুখ্যমন্ত্রী নিজেই গতকাল প্রমাণ করে দিয়েছেন।”
তৃণমূল সূত্রের দাবি, আইপ্যাকের ল্যাপটপ ও হার্ডডিস্ক থেকে দলের আগামী নির্বাচনের ব্লু-প্রিন্ট ও ভোটার তালিকা সংক্রান্ত বিশেষ সমীক্ষার (SIR) নথি হাতিয়ে নিয়েছে ইডি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আশঙ্কা, এই গুরুত্বপূর্ণ নথিগুলি চুরি হওয়ায় নতুন করে রণকৌশল সাজাতে গিয়ে নির্বাচনের সময় পেরিয়ে যাবে।
অন্যদিকে, ইডি সূত্রের খবর, কয়লা পাচার মামলার আর্থিক লেনদেনের সূত্র ধরেই এই তল্লাশি চালানো হয়েছে। তবে তল্লাশির আঁচ এখন আইনি লড়াই ছাপিয়ে কলকাতার রাজপথ ও রাজনৈতিক বাগযুদ্ধে রূপ নিয়েছে।
