আইপ্যাক তল্লাশিতে মমতা-হস্তক্ষেপ: আজ সুপ্রিম কোর্টে ভাগ্যনির্ধারণী শুনা

নিজস্ব প্রতিবেদন, নয়াদিল্লি: আইপ্যাক তল্লাশিতে খোদ মুখ্যমন্ত্রীর ‘হস্তক্ষেপ’ এবং ইডির তথ্যপ্রমাণ ছিনিয়ে নেওয়ার চাঞ্চল্যকর অভিযোগকে কেন্দ্র করে আজ সুপ্রিম কোর্টে হাইভোল্টেজ শুনানি। বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্র এবং বিচারপতি এন ভি আঞ্জারিয়ার ডিভিশন বেঞ্চে এই মামলার ফয়সালা হতে পারে। ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক আগে এই আইনি লড়াইকে কেন্দ্র করে জাতীয় রাজনীতির পারদ চড়তে শুরু করেছে।
এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট বা ইডি-র কেন্দ্রীয় গোয়েন্দাদের বিস্ফোরক দাবি, কলকাতায় আইপ্যাকের অফিস এবং সংস্থার সহ-প্রতিষ্ঠাতা প্রতীক জৈনের বাড়িতে তল্লাশি চালানোর সময় সশরীরে উপস্থিত হয়ে বাধা দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুধু তাই নয়, কেন্দ্রীয় এজেন্সির হাত থেকে তথ্যপ্রমাণ ছিনিয়ে নেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগও আনা হয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। এই মর্মে মুখ্যমন্ত্রী, রাজ্যের ডিজিপি এবং কলকাতার পুলিশ কমিশনারের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করার আবেদন জানিয়েছে ইডি।
কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার পক্ষে অতিরিক্ত সলিসিটার জেনারেল এস ভি রাজু গত শুনানিতেই জানিয়েছিলেন, পশ্চিমবঙ্গে কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলি কার্যত ‘আতঙ্কের পরিবেশে’ কাজ করছে। তাঁদের অভিযোগ, তল্লাশি চলাকালীন প্রশাসনিক ক্ষমতা প্রয়োগ করে তদন্ত প্রক্রিয়ায় বিঘ্ন ঘটানো হয়েছে।
পাল্টা চালে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অবশ্য তাঁর হলফনামায় সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন। তাঁর দাবি, গত ৮ জানুয়ারি তিনি লাউডন স্ট্রিট ও বিধাননগরে গিয়েছিলেন ঠিকই, তবে তা কোনও তদন্তে বাধা দিতে নয়। তাঁর যুক্তি, সেখানে তৃণমূল কংগ্রেসের অত্যন্ত গোপন ও গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক রণকৌশল সংক্রান্ত তথ্য ও ডিভাইস ছিল। তল্লাশির নামে সেইসব তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার খবর পেয়েই তিনি ‘বিনয়ের সঙ্গে’ দলের নিজস্ব ডেটা ফেরত চান। হলফনামায় তাঁর দাবি, ইডি আধিকারিকরা তখন কোনও আপত্তি করেননি এবং পরবর্তীতে তল্লাশি যে শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়েছে, তা ইডির নিজস্ব নথিতেই উল্লেখ রয়েছে।
তৃণমূল নেত্রীর পাল্টা আক্রমণ, এই গোটা অভিযানই আসলে ‘অসৎ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’। যেহেতু ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন শিয়রে, তাই তৃণমূলের রাজনৈতিক কৌশল এবং ডেটাবেস হাতে পেতেই কয়লা পাচার মামলার অছিলায় এই তল্লাশি চালানো হয়েছে বলে দাবি তাঁর। মমতা এ-ও প্রশ্ন তুলেছেন যে, তল্লাশি প্রক্রিয়ার কোনও অডিও বা ভিডিও রেকর্ডিং কেন পেশ করতে পারল না ইডি?
আইনি মহলের নজর এখন শীর্ষ আদালতের দিকে। তদন্তে ‘বাধা’ দেওয়া নাকি রাজনৈতিক ‘তথ্য পাচার’ আটকানো— দুই পক্ষের এই দ্বৈরথে আজ সুপ্রিম কোর্ট কী পর্যবেক্ষণ দেয়, সেটাই এখন দেখার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *