আইপ্যাক মামলায় হাইকোর্টে নজিরবিহীন বিশৃঙ্খলা: তৃণমূলের বিরুদ্ধে ‘পরিকল্পিত’ ষড়যন্ত্রের অভিযোগ শুভেন্দুর

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: গত ৯ জানুয়ারি কলকাতা হাইকোর্টে আইপ্যাক (I-PAC) সংক্রান্ত ইডির মামলার শুনানিকে কেন্দ্র করে তৈরি হলো চরম বিশৃঙ্খলা। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, ক্ষুব্ধ হয়ে এজলাস ত্যাগ করেন বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এবার রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে শোরগোল ফেলে দিয়েছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর দাবি, আদালত কক্ষের এই অরাজকতা আসলে তৃণমূল কংগ্রেসের এক ‘পরিকল্পিত’ ছক।

বৃহস্পতিবার আইপ্যাকের অফিসে ইডির তল্লাশিতে বাধা দেওয়ার অভিযোগে যে মামলা দায়ের হয়েছিল, শুক্রবার বিচারপতি শুভ্রা ঘোষের এজলাসে তার শুনানি হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু শুনানি শুরুর আগেই আদালত কক্ষে তিল ধারণের জায়গা ছিল না। মামলার সঙ্গে যুক্ত নন এমন বহু আইনজীবীর ভিড়ে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। বিচারপতি বারবার ঘর ফাঁকা করার নির্দেশ দিলেও পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন হয়নি। শেষ পর্যন্ত ধৈর্যের বাঁধ ভাঙলে বিচারপতি শুনানি স্থগিত করে এজলাস ত্যাগ করেন। পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে আগামী ১৪ জানুয়ারি।

এই ঘটনার পরই সরব হন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের চ্যাটের স্ক্রিনশট শেয়ার করেন (যার সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি)। বিরোধী দলনেতার অভিযোগ তৃণমূলপন্থী আইনজীবীরা পরিকল্পনা করেই ৫ নম্বর আদালত কক্ষে ভিড় জমিয়েছিলেন। ভাইরাল হওয়া ওই চ্যাটে ‘কোর্ট নম্বর ৫-এ সবাই চলে আসবেন’—এমন বার্তা দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি তাঁর।শুভেন্দুর মতে, বিচারপ্রক্রিয়া ব্যাহত করতেই শাসকদল এই বিশৃঙ্খলা তৈরি করেছ।
আইপ্যাক কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতে ইডির অভিযানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সশরীরে উপস্থিত হওয়া এবং নথিপত্র সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগ নিয়ে সরগরম আদালত। ইডির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, তল্লাশির সময় মুখ্যমন্ত্রী এবং কলকাতা পুলিশ তদন্তে বাধা দিয়েছেন। অন্যদিকে, তৃণমূলের পালটা অভিযোগ—রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতেই এই হানা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইতিমধ্যে ইডির বিরুদ্ধে নথি চুরির মামলা করেছেন এবং রাজ্য সরকার এই ইস্যুতে সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

৯ জানুয়ারির শুনানিতে বাধা পাওয়ার পর ইডি কর্তৃপক্ষ প্রধান বিচারপতির এজলাসে দ্রুত শুনানির আবেদন এবং পৃথক বেঞ্চ গঠনের আর্জি জানালেও তা খারিজ হয়ে যায়। আপাতত ১৪ জানুয়ারির দিকেই তাকিয়ে সব পক্ষ। তবে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা আইনি লড়াইয়ে এক ধাপ এগিয়ে থাকতে সুপ্রিম কোর্টে ক্যাভিয়েট দাখিল করতে পারে বলেও গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *