আই-প্যাক কান্ডে মমতা,ডিজিপি ও কলকাতা পুলিশ কমিশনারের বিরুদ্ধে সিবিআই তদন্ত চাইল ইডি
সঙ্কেত ডেস্ক:নয়াদিল্লি: আই-প্যাক সংক্রান্ত তল্লাশি অভিযানে বাধা দেওয়ার অভিযোগে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, রাজ্যের ডিজিপি এবং কলকাতা পুলিশ কমিশনারের বিরুদ্ধে স্বাধীন সিবিআই তদন্তের নির্দেশ চেয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। কেন্দ্রীয় সংস্থার দাবি, বৈধ অর্থ পাচার তদন্তে হস্তক্ষেপ করা হয়েছে, ডিজিটাল ডিভাইস ও নথি জোর করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে এবং ইডি কর্মকর্তাদের অন্যায়ভাবে আটকে রাখা হয়েছে।
সোমবার প্রকাশ্যে আসা ১৬০ পৃষ্ঠার আবেদনে ইডি অভিযোগ করেছে, ৮ জানুয়ারি মুখ্যমন্ত্রী নিজে মুখ্য সচিব, ডিজিপি, কলকাতা পুলিশ কমিশনার ও প্রায় ১০০ জন পুলিশ সদস্যকে নিয়ে তল্লাশির স্থলে প্রবেশ করেন। ওই সময় পিএমএলএ-র ১৭ ধারায় আই-প্যাকের পরিচালক প্রতীক জৈনের বাসভবন এবং ইন্ডিয়ান পিএসি কনসাল্টিং প্রাইভেট লিমিটেডের কার্যালয়ে অভিযান চলছিল।ইডি জানিয়েছে, তল্লাশির সময় কর্মকর্তাদের হুমকি দেওয়া হয়, কাজ বন্ধ করতে বাধ্য করা হয় এবং ফরেনসিক পরীক্ষাধীন ল্যাপটপ, মোবাইল ফোন ও এক ট্রাঙ্ক নথি নিয়ে যাওয়া হয়। সংস্থার দাবি, ভয়ভীতির পরিবেশে বাধ্যতামূলক পঞ্চনামা প্রক্রিয়াও সম্পন্ন করা যায়নি।
এই ঘটনাকে নজিরবিহীন বলে উল্লেখ করে ইডি বলেছে, অভিযোগগুলি ভারতীয় ন্যায় সংহিতার আওতায় চুরি, ডাকাতি, অনধিকার প্রবেশ, ফৌজদারি ভয়ভীতি প্রদর্শন, অন্যায়ভাবে আটক ও প্রমাণ নষ্টের মতো গুরুতর আমলযোগ্য অপরাধের সঙ্গে যুক্ত। অভিযুক্তরা রাজ্য পুলিশ প্রশাসন নিয়ন্ত্রণ করেন বলে রাজ্য পুলিশের কাছে অভিযোগ করা অর্থহীন হবে—এই যুক্তিতে সিবিআই তদন্তের নির্দেশ চাওয়া হয়েছে।রিট আবেদনে সংবিধানের ১৪, ২১ ও ২২ অনুচ্ছেদের উল্লেখ করে ইডি তাদের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ‘বিদ্বেষপূর্ণ ফৌজদারি মামলা’ ও ভয়ভীতি থেকে সুরক্ষার আবেদন জানিয়েছে। পাশাপাশি বলা হয়েছে, পিএমএলএ-র অধীনে ইডি কর্মকর্তার ‘বিশ্বাস করার কারণ’ বা তল্লাশির বৈধতা নিয়ে আপত্তি তোলার নির্দিষ্ট বিচারিক ফোরাম আছে, শারীরিক শক্তি প্রয়োগ করে তা বিচার করা যায় না।
ইডি আরও দাবি করেছে, এই বাধার উদ্দেশ্য ছিল পশ্চিমবঙ্গে কথিত অবৈধ কয়লা খনির সঙ্গে যুক্ত একটি বড় অর্থ পাচার মামলার প্রমাণ নষ্ট করা। সংস্থার মতে, প্রাকৃতিক সম্পদ লুটের মাধ্যমে ২,৭৪২.৩২ কোটি টাকার অপরাধলব্ধ অর্থ তৈরি হয়েছে এবং প্রতীক জৈন ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলি হাওয়ালা চ্যানেলে ২০ কোটি টাকার বেশি অর্থ পেয়েছে—এমন তথ্যের ভিত্তিতেই তল্লাশি চালানো হয়।‘প্যারেন্স প্যাট্রিয়া’ নীতির উল্লেখ করে ইডি বলেছে, অর্থনৈতিক অপরাধে ক্ষতিগ্রস্ত অসংখ্য অজ্ঞাত নাগরিকের স্বার্থরক্ষাই তাদের দায়িত্ব এবং অবাধ ও সুষ্ঠু তদন্ত সংবিধানের মৌলিক অধিকারগুলির অংশ। সংস্থাটি কেন্দ্রীয় তদন্তে হস্তক্ষেপের একটি ধারাবাহিকতার কথাও তুলে ধরেছে।
এদিকে, ইডি-র পদক্ষেপের আশঙ্কায় পশ্চিমবঙ্গ সরকার সুপ্রিম কোর্টে ক্যাভিয়েট দাখিল করেছে, যাতে কোনো অন্তর্বর্তী আদেশ দেওয়ার আগে রাজ্যের বক্তব্য শোনা হয়। কলকাতা হাইকোর্টে প্রতিকার চাওয়ার চেষ্টা আদালত কক্ষে বিশৃঙ্খলার কারণে ব্যাহত হওয়ায় সুপ্রিম কোর্টে আসতে বাধ্য হয়েছে বলেও ইডি জানিয়েছে।
উল্লেখ্য এই আইনি সংঘাতের সূত্রপাত অনুপ মাঝি সংক্রান্ত কথিত কয়লা পাচার মামলায় ইডি-র একাধিক তল্লাশির পর, যার মধ্যে আই-প্যাকের সল্ট লেকের কার্যালয় ও প্রতীক জৈনের বাসভবনও রয়েছে।
