আউশগ্রামে আবার সেই ‘পরিচারিকা’ বাজি বিজেপির, তবে কলিতার প্রার্থীপদ ঘিরে আইনি কাঁটা

নিজস্ব প্রতিবেদন: গতবারের চেনা মুখ, চেনা লড়াই। কিন্তু ২০২৬-এর বিধানসভা ভোটের নির্ঘণ্ট বাজতেই পূর্ব বর্ধমানের আউশগ্রাম আসনে বিজেপির প্রার্থী নির্বাচন ঘিরে দানা বাঁধল তীব্র বিতর্ক। গতবারের মতো এবারও গেরুয়া শিবির ভরসা রেখেছে পেশায় পরিচারিকা, সেই শ্রমজীবী নারী কলিতা মাঝির ওপর। সোমবার বিজেপির প্রথম দফার প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পর দেখা যায়, তফশিলি জাতি সংরক্ষিত এই আসনে পদ্ম-প্রার্থী হিসেবে কলিতার নামই চূড়ান্ত। কিন্তু খটকা লাগল অন্য জায়গায়— ভোটার তালিকায় কলিতার নামের পাশে জ্বলজ্বল করছে ‘আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন’ (Under Adjudication) বা ‘বিবেচনাধীন’ তকমা। আর তা নিয়েই সরগরম জেলার রাজনীতি।
গুসকরা পুরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা কলিতা মাজি। ১৯৫ নম্বর বুথের ভোটার তালিকায় ৩৯৭ নম্বর সিরিয়ালে তাঁর নাম থাকলেও, আইনি জটিলতায় তা এখন ঝুলে রয়েছে। অর্থাৎ, নাগরিকত্ব বা অন্য কোনও নথির সত্যতা নিয়ে নির্বাচন কমিশনের চূড়ান্ত শিলমোহর এখনও মেলেনি। প্রশ্ন উঠেছে, যাঁর নিজের ভোটাধিকারই এখনও বিশ বাঁও জলে, তিনি আদেও কি প্রার্থী হতে পারবেন? পারবেন কি ইভিএমে নিজের বোতাম নিজেই টিপতে?
এই ইস্যুকে হাতিয়ার করে ময়দানে নেমেছে শাসক দল। জেলা তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক বাগবুল ইসলামের চাঁচাছোলা আক্রমণ, “আমরা যা বলেছিলাম তাই সত্যি হল। যাঁর নিজের নামই তালিকায় প্রশ্নের মুখে, তাঁকে প্রার্থী করে বিজেপি প্রমাণ করল কমিশনের সঙ্গে তাদের অশুভ আঁতাত রয়েছে।”
পাল্টা জবাব দিতে দেরি করেনি বিজেপিও। জেলা বিজেপি নেতা মৃত্যুঞ্জয় চন্দ্রের দাবি, “তৃণমূল ভিত্তিহীন অভিযোগ করছে। এটা নিছকই একটি যান্ত্রিক বা প্রযুক্তিগত প্রক্রিয়া। কমিশন নিয়ম মেনেই কাজ করে, সেখানে জাত-পাত বা দলের কোনও স্থান নেই।”
বিতর্কের কেন্দ্রে থাকা কলিতা মাজি অবশ্য বিন্দুমাত্র বিচলিত নন। তাঁর কথায়, “এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়ায় কিছু ত্রুটির জন্য আমায় ডাকা হয়েছিল, আমি সব কাগজ জমা দিয়েছি। আমার বাকি ছয় বোনের নাম তালিকায় উঠলে শুধু আমারটা কেন ঝুলিয়ে রাখা হল জানি না। তবে কমিশন জানিয়েছে অসুবিধা হবে না। আমি জয়ের ব্যাপারে ১০০ শতাংশ নিশ্চিত।”
রাজনীতির অলিন্দে এখন একটাই প্রশ্ন— স্ক্রুটিনির টেবিলে কি কলিতার প্রার্থীপদ শেষ পর্যন্ত টিঁকে থাকবে? না কি আইনি গ্যাঁড়াকলে আউশগ্রামের লড়াই শুরুর আগেই ধাক্কা খাবে বিজেপি? উত্তর দেবে সময়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *