নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা: আরজি করের নির্যাতিতা চিকিৎসকের বিচার চেয়ে গত কয়েকমাস ধরে উত্তাল হয়েছে রাজপথ। এ বার কি সেই আন্দোলনের রেশ আছড়ে পড়তে চলেছে বিধানসভা নির্বাচনেও? উত্তর ২৪ পরগনার পানিহাটি বিধানসভা আসনে নির্যাতিতার মায়ের সম্ভাব্য প্রার্থীপদ ঘিরে এখন জোর চর্চা শুরু হয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে। এই আবহেই নির্যাতিতার মায়ের লড়াইয়ের ইচ্ছাকে সমর্থন জানিয়ে নতুন জল্পনা উস্কে দিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।
শুক্রবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শুভেন্দু স্পষ্ট জানান, নারীদের ওপর অত্যাচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে নির্যাতিতার মায়ের নির্বাচনে লড়া উচিত বলেই তিনি মনে করেন। বিরোধী দলনেতার কথায়, “দলের উচ্চ নেতৃত্ব বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন। তবে আমার ব্যক্তিগত মত, ওঁর নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা উচিত। এতে নারীদের নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষার প্রশ্নটি আরও জোরালোভাবে জনসমক্ষে আসবে।”
বিজেপির অন্দরের খবর, পানিহাটি আসন থেকে নির্যাতিতা জুনিয়র ডাক্তারের মাকে প্রার্থী করার বিষয়ে প্রাথমিক আলোচনা শুরু হয়েছে। খোদ নির্যাতিতার মা বৃহস্পতিবার সংবাদমাধ্যমে জানিয়েছেন যে, তিনি বিজেপির টিকিটে লড়তে সম্মত। এমনকি আরজি কর ইস্যু নিয়ে সিপিএমের বিরুদ্ধে ‘রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধি’র অভিযোগও তুলেছেন তিনি।
তবে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে বিজেপি শিবিরের অন্দরে দু’রকম মত উঠে আসছে:
সমর্থনকারীদের মত: নির্যাতিতার মা প্রার্থী হলে পানিহাটি আসনে বিজেপি বাড়তি মাইলেজ পাবে। সেই সঙ্গে আরজি করের নৃশংস ঘটনার স্মৃতি জনমানসে টাটকা রাখা সম্ভব হবে।
সংশয়ী অংশের মত: পরিবারটিকে সরাসরি ভোটের ময়দানে না নামিয়ে বরং রাজ্যজুড়ে প্রচারের ‘মুখ’ হিসেবে ব্যবহার করা বেশি ফলদায়ী হতে পারে। তাঁদের আশঙ্কা, সরাসরি ভোটে লড়লে সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত সহানুভূতি রাজনৈতিক মেরুকরণের আড়ালে ঢাকা পড়ে যেতে পারে।
নেপথ্যে শুভেন্দু-ফ্যাক্টর?
আন্দোলনের প্রথম পর্বে নির্যাতিতার পরিবার সিবিআই তদন্তের গতিপ্রকৃতি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিল। কিন্তু বিজেপি সূত্রের দাবি, আন্দোলনের রাশ যখন ক্রমশ বামপন্থীদের হাতে চলে যাচ্ছিল, তখন শুভেন্দু অধিকারীই ধৈর্য ধরে পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে তাঁদের আস্থা অর্জন করেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষক বিশ্বনাথ চক্রবর্তীর মতে, “নির্যাতিতার মায়ের প্রার্থী হওয়া সরাসরি নির্বাচনী ফলে কতটা প্রভাব ফেলবে তা এখনই বলা কঠিন, কিন্তু আরজি কর ইস্যুকে ভোটের মূল প্রতিপাদ্য করে তুলে রাজ্য রাজনীতিতে এটি বড়সড় মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে।”
এখন দেখার, শেষ পর্যন্ত পানিহাটির লড়াইয়ে ‘তিলতিল’ (নির্যাতিতার ডাকনাম) এর মাকেই কি বাজি করে পদ্মশিবির, নাকি রণকৌশল বদল করে তারা।