আসানসোলে সাতসকালে শুটআউট: নামাজ পড়তে যাওয়ার পথে ব্যবসায়ীর রহস্যমৃত্যু

নিজস্ব সংবাদদাতা, আসানসোল: ২৪ জানুয়ারি, ২০২৬
ভোরের শান্ত পরিবেশে আচমকাই গুলির শব্দে কেঁপে উঠল শিল্পাঞ্চল। শনিবার ভোরে আসানসোলের হিরাপুর থানার বার্নপুর করিম ডাঙ্গাল এলাকায় এক গ্রিল ব্যবসায়ীকে লক্ষ্য করে হামলার ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার জেরে মৃত্যু হয়েছে ৩৫ বছর বয়সী ব্যবসায়ী মহঃ সরফুদ্দিনের। তবে গুলির লক্ষ্যভ্রষ্ট হওয়া সত্ত্বেও ব্যবসায়ীর মৃত্যু ঘিরে দানা বেঁধেছে রহস্য।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রতিদিনের মতো শনিবার ভোর সাড়ে পাঁচটা নাগাদ বাড়ি থেকে বেরিয়ে স্থানীয় মসজিদে নামাজ পড়তে যাচ্ছিলেন সরফুদ্দিন। সেই সময় একটি মোটরবাইকে করে আসা দুই দুষ্কৃতী তাঁর পথ আটকায় এবং খুব কাছ থেকে এক রাউন্ড গুলি চালায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, গুলিটি লক্ষ্যভ্রষ্ট হলেও আক্রমণের আকস্মিকতায় রাস্তায় পড়ে যান ওই ব্যবসায়ী। তাঁর নাক ও মুখ দিয়ে প্রচুর রক্তপাত হতে শুরু করে। এলাকাবাসী ছুটে এলে দুষ্কৃতীরা তাদের সঙ্গে থাকা পিস্তলটি ফেলে রেখেই এলাকা থেকে পালিয়ে যায়।গুরুতর জখম অবস্থায় সরফুদ্দিনকে উদ্ধার করে আসানসোল জেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। তবে নিহতের পরিবারের দাবি, এটি সাধারণ শুটআউট নাও হতে পারে। মৃত ব্যবসায়ীর ভাইপো মহঃ সানু বলেন “ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি কাকা অচৈতন্য অবস্থায় পড়ে আছেন, পাশে একটি পিস্তল পড়ে রয়েছে। আমার মনে হয় কাকা গুলির আঘাতে মারা যাননি। নাকে গভীর আঘাত বা অন্য কোনো কারণে রক্তক্ষরণে মৃত্যু হয়েছে।”নিহতের ভাই মহঃ জয়নুল জানিয়েছেন, সরফুদ্দিন অত্যন্ত সাধারণ জীবনযাপন করতেন এবং তাঁর কোনো প্রকাশ্য শত্রু ছিল না। ফলে কেন তাঁর ওপর হামলা হলো, তা নিয়ে ধন্দ তৈরি হয়েছে।
ঘটনার খবর পেয়েই আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশের এসিপি (হিরাপুর) ইপ্সিতা দত্ত এবং সিআই অশোক সিং মহাপাত্রের নেতৃত্বে বিশাল পুলিশ বাহিনী করিম ডাঙ্গালে পৌঁছায়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি ৭.৬৫ এমএম পিস্তল ও একটি কার্তুজের খোল উদ্ধার করেছে।
পুলিশের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ অনুমান গুলিটি সম্ভবত লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়েছিল।মৃত্যুর প্রকৃত কারণ হৃদরোগ, অভ্যন্তরীণ আঘাত না কি অন্য কিছু— তা ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলেই স্পষ্ট হবে।
আততায়ীদের শনাক্ত করতে এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
জনবহুল এলাকায় কাকভোরে এই ধরণের সশস্ত্র হামলার ঘটনায় পুলিশের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে পুলিশ বাহিনী। দুষ্কৃতীদের খোঁজে তল্লাশি শুরু হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *