ইডির জোড়া মামলায় গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ সুপ্রিম কোর্টের, তদন্তে হস্তক্ষেপ নিয়ে কড়া বার্তা
নিজস্ব প্রতিনিধি:এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)-র দায়ের করা জোড়া মামলার শুনানিতে গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ করল সুপ্রিম কোর্ট। উভয় পক্ষের আইনজীবীদের বক্তব্য শোনার পর শীর্ষ আদালত জানিয়েছে, বর্তমান আবেদনটি ইডি ও অন্যান্য কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার কাজে রাজ্য কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ সংক্রান্ত এক অত্যন্ত গুরুতর বিষয়কে সামনে নিয়ে এসেছে।
আদালতের মতে, এই ধরনের অভিযোগ দেশের আইন ও শাসন ব্যবস্থার মূল ভিত্তির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত এবং একে হালকাভাবে নেওয়া যায় না। আইনের শাসন বজায় রাখতে এবং প্রতিটি তদন্তকারী সংস্থাকে স্বাধীন ও নিরপেক্ষভাবে কাজ করার সুযোগ দিতে এই বিষয়টির পূর্ণাঙ্গ বিচার প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছে সর্বোচ্চ আদালত।
ডিভিশন বেঞ্চ পর্যবেক্ষণে জানিয়েছে, কোনও অপরাধী যেন কোনও রাজ্যের সুরক্ষার আড়ালে থেকে আইনের হাত এড়াতে না পারে, তা নিশ্চিত করা সাংবিধানিক দায়িত্ব। পাশাপাশি আদালত উল্লেখ করেছে, এই মামলায় আইনের বৃহত্তর প্রশ্ন জড়িত রয়েছে। সেগুলি অমীমাংসিত রেখে দিলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে এবং এক বা একাধিক রাজ্যে আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটার আশঙ্কা রয়েছে।
তবে আদালত একই সঙ্গে স্পষ্ট করেছে, কোনও তদন্তকারী সংস্থারই নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করার অধিকার নেই। কিন্তু শীর্ষ আদালতের মন্তব্য, যখন কোনও কেন্দ্রীয় সংস্থা কোনও গুরুতর অপরাধের তদন্তে সৎ ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে, তখন রাজনৈতিক কার্যকলাপ বা দলীয় পরিচয়ের আড়ালে সেই তদন্তকে বাধাগ্রস্ত করা সাংবিধানিক ক্ষমতার পরিপন্থী।
এই প্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্ট সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে নোটিশ জারি করেছে এবং তিন দিনের মধ্যে পাল্টা হলফনামা দাখিলের নির্দেশ দিয়েছে। একই সঙ্গে ইডি অফিসারদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া এফআইআর-এর উপর আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত স্থগিতাদেশ জারি করেছে আদালত। ওই সময়সীমার মধ্যে ইডির কোনও আধিকারিকের বিরুদ্ধে কোনও ধরনের কড়া ব্যবস্থা নেওয়া যাবে না বলেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মামলার পরবর্তী শুনানি ধার্য হয়েছে আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি। পাশাপাশি, গোটা ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত এবং আশপাশের এলাকার সমস্ত সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষণের নির্দেশ দিয়েছে সর্বোচ্চ আদালত। ইডির তল্লাশির সময় পুলিশের হস্তক্ষেপের ঘটনাকে গুরুতর বলে উল্লেখ করে আদালত জানিয়েছে, প্রত্যেক সংস্থাকে স্বতন্ত্রভাবে কাজ করার সুযোগ দিতে হবে এবং একটি সংস্থার কাজে অন্য কোনও সংস্থার হস্তক্ষেপ যেন না হয়, তা নিশ্চিত করা জরুরি।