এলপিজির হাহাকার! আমজনতাকে স্বস্তি দিতে রেশনে ফিরছে কেরোসিন

নিজস্ব প্রতিবেদন: পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের দামামা আর আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের অস্থিরতা—এই দুইয়ের যাঁতাকলে পড়ে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস ওঠার জোগাড়। রান্নার গ্যাসের আকাশছোঁয়া দাম আর জোগানের অনিশ্চয়তা যখন আমজনতার কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে, ঠিক তখনই বড়সড় স্বস্তির খবর শোনাল কেন্দ্র। বিকল্প জ্বালানি হিসেবে ফের রেশন ব্যবস্থার মাধ্যমে কেরোসিন তেল বিলির পথ প্রশস্ত করল মোদী সরকার।

২০২২ সাল থেকে পরিবেশ দূষণের কারণ দেখিয়ে রেশনে কেরোসিন সরবরাহ কার্যত বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। লক্ষ্য ছিল দেশবাসীকে পরিবেশবান্ধব এলপিজি বা রান্নার গ্যাসে অভ্যস্ত করা। কিন্তু বর্তমান আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতি পরিস্থিতি সেই সমীকরণ বদলে দিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের জেরে এলপিজি সরবরাহে বড়সড় সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এই ‘জ্বালানি-আতঙ্ক’ কাটাতে পুরোনো কেরোসিনকেই সাময়িক হাতিয়ার হিসেবে বেছে নিল পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রক।

সম্প্রতি এলপিজি সংকটের আশঙ্কায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরীকে চিঠি লেখে রেশন ডিলারদের সংগঠন ‘অল ইন্ডিয়া ফেয়ার প্রাইস শপ ডিলার্স ফেডারেশন’। সংগঠনের তরফে দ্রুত কেরোসিন চালু করার জোরালো দাবি জানানো হয়। সেই চিঠিতেই সাড়া দিয়ে কেন্দ্র পুনরায় কেরোসিন সরবরাহে ছাড়পত্র দিয়েছে। দিল্লি সূত্রে খবর, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই দেশের বিভিন্ন প্রান্তের রেশন দোকানে তেলের জোগান শুরু হয়ে যাবে। পশ্চিমবঙ্গকে এই দফায় মোট ৪ হাজার ১০০ কিলো লিটার কেরোসিন তেল অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় নির্দেশিকা অনুযায়ী,আগামী ৪৫ দিনের মধ্যে এই বিপুল পরিমাণ তেল সংগ্রহ করতে হবে।এরপর রেশন ডিলারদের মাধ্যমে তা সরাসরি গ্রাহকদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে।রাজ্য সরকারের কাছে এই তেল সংগ্রহের জন্য প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো প্রস্তুত রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

কেন্দ্রীয় সরকার আপাতত এই ছাড়পত্রকে ‘সাময়িক’ হিসেবেই দেখছে। ঠিক কতদিন এই সরবরাহ জারি থাকবে, সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো সময়সীমা দেওয়া হয়নি। তবে রেশন ডিলারদের দাবি, গ্যাসের বর্তমান বাজারদর এবং সাধারণ মানুষের আর্থিক অবস্থার কথা বিবেচনা করে এই সরবরাহ যেন স্থায়ী করা হয়।একজন সাধারণ গৃহবধূ জানিয়েছেন “গ্যাসের যে দাম, তাতে দুই বেলা রান্না করা দায় হয়ে দাঁড়িয়েছিল। রেশনে কেরোসিন ফিরলে অন্তত ডাল-ভাতটা ফুটিয়ে নিতে পারব।”

কেরোসিনের এই ‘প্রত্যাবর্তন’ সাধারণ মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারকে রান্নার খরচের বোঝা থেকে কিছুটা হলেও মুক্তি দেবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *