এসআইআর বিতর্কে উত্তাল রাজ্য, ফরাক্কার পর এবার চাকুলিয়ায় রণক্ষেত্র, আক্রান্ত পুলিশ

0
FotoJet-2026-01-15T143450.466

সঙ্কেত ডেস্ক:এসআইআর (স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন) ঘিরে বিতর্ক যেন পিছু ছাড়ছেই না। শুরু থেকেই শাসকদল বিজেপি ও নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে সরব। খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশের পর বহু নথিতে ভুল ধরা পড়ায় শুরু হয়েছে শুনানি। কিন্তু সেই শুনানিকেই কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষের হয়রানির অভিযোগ উঠছে বারবার। এরই মধ্যে ফরাক্কার ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই বৃহস্পতিবার রণক্ষেত্রের চেহারা নিল উত্তর দিনাজপুরের চাকুলিয়া।পুলিশ সূত্রে খবর, এসআইআর শুনানির নামে হয়রানির প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার বিডিও অফিসের অদূরে কাহাটা এলাকায় রাজ্য সড়ক অবরোধ করেন একদল বিক্ষোভকারী। যাঁরা শুনানির নোটিস পেয়েছিলেন, মূলত তাঁরাই বিক্ষোভে শামিল হন। এর জেরে ব্যাহত হয় যান চলাচল, তৈরি হয় তীব্র যানজট।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছোতেই উত্তেজনা চরমে ওঠে। অভিযোগ, উত্তেজিত জনতা পুলিশকে লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি ইটবৃষ্টি শুরু করে। ইটের আঘাতে গুরুতর জখম হন ইসলামপুর থানার আইসি। পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে গেলে পুলিশকে কার্যত কোণঠাসা করে বিডিও অফিসে ঢুকে ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয়।
পুলিশ ও প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টা নাগাদ প্রায় ৩০০ জনের একটি দল জোর করে বিডিও অফিসে ঢোকার চেষ্টা করে। বিক্ষোভকারীরা মূলত এসআইআরের শুনানিতে নোটিস পাওয়া ব্যক্তি বলে জানা গেছে। পুলিশ বাধা দিলে পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।অভিযোগ, উত্তেজিত জনতা অফিসের ভেতরে ঢুকে কম্পিউটার, প্রিন্টার-সহ একাধিক ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম এবং চেয়ার-টেবিল ভাঙচুর করে। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র তছনছ করা হয় এবং আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।এমনকি দমকলের ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে পৌঁছতে বাধা দেওয়া হয়। রাস্তায় গাছের গুঁড়ি ফেলে অবরোধও করা হয়। গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র তছনছ হওয়ায় এসআইআর সংক্রান্ত জরুরি তথ্য নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা করছে নির্বাচন কমিশন।

ঘটনার পরেই কড়া অবস্থান নিয়েছে কমিশন। পুলিশ ও বিডিও অফিসের উপর এই ‘সংগঠিত হামলা’র ঘটনায় অবিলম্বে দোষীদের চিহ্নিত করে গ্রেফতারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জেলা নির্বাচনি আধিকারিক তথা জেলাশাসককে দ্রুত এফআইআর দায়ের করার নির্দেশ দিয়েছে কমিশন।

আপাতত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এলাকায় বিশাল পুলিশ বাহিনী ও র‍্যাফ নামানো হয়েছে। তবে এই হামলার নেপথ্যে কোনও রাজনৈতিক ইন্ধন রয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখছে প্রশাসন। পরপর দুটি ঘটনার পর রাজ্যের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও প্রশাসনিক প্রস্তুতি নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *