এসআইআর শুনানিতে লক্ষ্মীরতন শুক্লা, ইসি-র ভূমিকা নিয়ে ফের সরব মমতা

সঙ্কেত ডেস্ক: অভিনেতা দেব, কবি জয় গোস্বামী ও নোবেলজয়ী অমর্ত্য সেনের পর এবার ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ার আওতায় শুনানিতে ডাকা হল মমতা সরকারের প্রাক্তন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী লক্ষ্মীরতন শুক্লাকে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।নির্বাচন কমিশনের পাঠানো নোটিশে জানানো হয়েছে, ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় লক্ষ্মীরতন শুক্লার বাবার নাম না থাকায় সেই সংক্রান্ত নথি পেশের জন্য তাঁকে শুনানিতে হাজির হতে হবে। লক্ষ্মীরতন জানিয়েছেন, ১৯৯৫ সালের ভোটার তালিকায় তাঁর বাবার নাম ছিল এবং তিনি কমিশনের সামনে প্রয়োজনীয় সব নথি জমা দেবেন।
এই আবহেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ফের জাতীয় নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে পঞ্চমবার চিঠি দিয়ে তিনি অভিযোগ করেছেন, যান্ত্রিক ও ত্রুটিপূর্ণ পদ্ধতিতে এসআইআর চালানো হচ্ছে, যার ফলে বহু যোগ্য ভোটার তাঁদের সাংবিধানিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তাঁর দাবি, নথি জমা দেওয়া সত্ত্বেও বহু আবেদনকে ‘ডকুমেন্ট নট ফাউন্ড’ বলে চিহ্নিত করা হচ্ছে, যা বিভ্রান্তি ও আতঙ্ক তৈরি করছে।
এদিনের চিঠিতে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, যে পদ্ধতিতে কাজ হচ্ছে তাতে যে কোনও ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়ে যেতে পারে। এই পদ্ধতি সঠিক নয় বলেও জানিয়েছেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর এদিনের চিঠিতে বলা হয়েছে, শুনানি পর্বে নির্বাচকরা নিজেদের পক্ষে যেসব নথি জমা করছেন অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তার কোনও প্রাপ্তিস্বীকার করে কোনও রিসিট দিচ্ছে না কমিশন। পরে কমিশন যদি জানায় যে এই নথি পাওয়া যায়নি বা জমা হয়নি এবং তার ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট ভোটারের নাম কাটা যাবার সম্ভাবনা থেকে যাচ্ছে। এই ধরণের পদ্ধতি সঠিক নয়।চিঠিতে তিনি লিখেছেন, গত দু’দশক ধরে নিজেদের করা কাজ, কর্মপদ্ধতি অস্বীকার করছে কমিশন। যা সম্পূর্ণভাবে অযৌক্তিক। মুখ্যমন্ত্রীর প্রশ্ন কেন ২০০২-এর পদ্ধতির সম্পূর্ণ উল্টো পদ্ধতিতে কাজ করা হচ্ছে? এর অর্থ কি এই যে এর আগে গত কয়েক বছরে যা যা কাজ করা হয়েছে তার সবই বেআইনি?
এসআইআর নিয়ে বিতর্কে যুক্ত হয়েছেন প্রাক্তন নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল অরুণ প্রকাশও। তিনি জানিয়েছেন, ফর্ম পূরণের পরও তাঁকে ও তাঁর স্ত্রীকে আলাদা আলাদা শুনানির নোটিশ পাঠানো হয়েছে, তা নিয়ে তিনি আপত্তি তুলেছেন।
ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন প্রক্রিয়া ঘিরে দেশজুড়ে এই ঘটনাগুলি নতুন করে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্ক উসকে দিয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *