কড়া পাহারায় বিধানসভা ভোট, রাজ্যে নামছে রেকর্ড ২২০০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা: রাজ্যে অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতে কোনো খামতি রাখতে চাইছে না নির্বাচন কমিশন। আসন্ন বিধানসভা ভোটে নজিরবিহীন নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হচ্ছে বাংলাকে। সোমবার সর্বদলীয় বৈঠকের পর সাংবাদিক সম্মেলনে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন— ভয়মুক্ত পরিবেশে ভোট করানোই এখন কমিশনের প্রধান লক্ষ্য।
এ বার রাজ্যের ৮০ হাজার ৭১৯টি বুথের নিরাপত্তায় মোতায়েন করা হচ্ছে প্রায় ২২০০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রতিটি জেলায় দুজন করে এবং পুলিশ কমিশনারেট এলাকাগুলিতে আলাদা করে ‘পুলিশ অবজারভার’ বা পর্যবেক্ষক নিয়োগ করছে কমিশন। স্পর্শকাতর এলাকাগুলিতে থাকবে ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা বলয় এবং প্রয়োজনে আকাশপথে ড্রোনের মাধ্যমেও নজরদারি চালানো হবে।
কমিশনের নজরে যে বিষয়গুলি থাকছে, নির্বাচনী বিধি বলবৎ হওয়ার পর থেকেই সক্রিয় কমিশন। ইতিমধ্যেই রাজ্যজুড়ে তল্লাশিতে প্রায় ১১২ কোটি টাকার নগদ ও অন্যান্য সামগ্রী বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। সমাজমাধ্যমে ভুয়ো খবর বা উস্কানিমূলক পোস্ট রুখতে বিশেষ নজরদারি টিম গঠন করা হয়েছে। ইন্টারনেট প্ল্যাটফর্মগুলির ওপর কড়া নজর রাখবে কমিশন। ৮৫ বছরের ঊর্ধ্বের বৃদ্ধ এবং ৪০ শতাংশের বেশি শারীরিক প্রতিবন্ধকতা রয়েছে এমন ভোটাররা চাইলে বাড়িতে বসেই ভোট দিতে পারবেন। ভোটকেন্দ্রে মোবাইল নিয়ে প্রবেশ নিষিদ্ধ। ভোটারদের সুবিধার্থে মোবাইল জমা রাখার জন্য এ বার ‘টোকেন’ পদ্ধতি চালু করছে কমিশন।
মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক এ দিন কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, কোথাও কোনও অশান্তি, ভোটারদের ভয় দেখানো বা ছাপ্পা ভোটের অভিযোগ প্রমাণিত হলে কমিশন রেয়াত করবে না। প্রয়োজনে সেই বুথে পুনরায় ভোটগ্রহণের (রি-পোল) সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। রাজ্যের গণতন্ত্রের উৎসবে সাধারণ মানুষ যাতে নির্ভয়ে শামিল হতে পারেন, তার জন্য সব রকম প্রশাসনিক প্রস্তুতি সারা হয়ে গিয়েছে বলে দাবি কমিশনের।
