কপিল সিব্বলের অসুস্থতায় সুপ্রিম কোর্টে পিছোল মমতা–ইডি সংঘর্ষ মামলার শুনানি

সঙ্কেত ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)-এর সংঘর্ষ ঘিরে আই-প্যাক-সম্পর্কিত মামলার শুনানি আবারও পিছিয়ে গেল সুপ্রিম কোর্টে। মুখ্যমন্ত্রীর পক্ষে সওয়াল করা সিনিয়র আইনজীবী কপিল সিব্বল অসুস্থ হওয়ায় অতিরিক্ত সময়ের আবেদন করা হলে মঙ্গলবার তা মঞ্জুর করে শীর্ষ আদালত। নতুন করে শুনানির দিন ধার্য হয়েছে ১৮ ফেব্রুয়ারি।

বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্র ও বিচারপতি বিপুল মনুভাই পাঞ্চোলির বেঞ্চে মামলাটি প্রথমে ৩ ফেব্রুয়ারি তালিকাভুক্ত ছিল। পরে ১০ ফেব্রুয়ারি পুনরায় শুনানির কথা থাকলেও সিব্বলের অসুস্থতার কারণে তা স্থগিত হয়। আদালত জানিয়েছে, উভয় পক্ষের প্রস্তুতির জন্য অতিরিক্ত সময় দেওয়া হচ্ছে।এর আগে পশ্চিমবঙ্গ সরকার সুপ্রিম কোর্টে দাখিল করা হলফনামায় ইডির আবেদন খারিজের দাবি জানায়। রাজ্যের বক্তব্য, শীর্ষ আদালতে এই মামলা দায়ের করার এখতিয়ার ইডির নেই এবং তল্লাশির পদ্ধতিতেও ত্রুটি ছিল। হলফনামায় আরও বলা হয়েছে, মুখ্যমন্ত্রী তল্লাশি অভিযানে বাধা দেননি; যথাযথ অনুমতি নিয়েই দলীয় নথিপত্র সংগ্রহ করেছিলেন।অন্যদিকে, ইডির পক্ষে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা হলফনামা খতিয়ে দেখে জবাব দাখিলের জন্য সময় চান। আদালত সে আবেদন মঞ্জুর করে এবং রাজ্যের মতামত জানতে চেয়ে শুনানি পিছিয়ে দেয়।

মামলার সূত্রপাত ৮ জানুয়ারির ঘটনায়। ওইদিন কয়লা পাচার মামলার তদন্তে ইডি রাজনৈতিক পরামর্শদাতা সংস্থা আই-প্যাকের অফিস এবং সংস্থার প্রধান প্রতীক জৈনের বাড়িতে তল্লাশি চালায়। তল্লাশির খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান মুখ্যমন্ত্রী। তিনি দাবি করেন, যে নথিগুলি তিনি নিয়ে গিয়েছিলেন সেগুলি তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় ও নির্বাচনী কৌশল সংক্রান্ত, তাই তা জব্দ করা যায় না। এই ঘটনাকে ঘিরেই ইডি ও রাজ্য প্রশাসনের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়।
ইডির অভিযোগ, তল্লাশির সময় তদন্তে বাধা দেওয়া হয়েছিল এবং রাজ্য পুলিশের কিছু শীর্ষকর্তাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। এ নিয়ে ইডি ও তিন আধিকারিক পৃথকভাবে সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের করেছেন।

এখন নজর ১৮ ফেব্রুয়ারির শুনানিতে। ওইদিন আদালতে রাজ্য ও কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার মধ্যে আইনি লড়াই কোন দিকে মোড় নেয়, তা দেখার অপেক্ষায় রাজনৈতিক মহল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *