নিজস্ব সংবাদদাতা, দুর্গাপুর: ভোটের বাদ্যি বাজতেই শিল্পাঞ্চলের অলিতে-গলিতে রাজনীতির পারদ চড়তে শুরু করেছে। এবার সেই উত্তাপের কেন্দ্রে দুর্গাপুর পুরসভার ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাইজার গলি এলাকা। তৃণমূল প্রার্থী কবি দত্তের সমর্থনে লাগানো একগুচ্ছ ব্যানার রাতারাতি ‘উধাও’ হয়ে যাওয়াকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার সকাল থেকেই সরগরম এলাকা। অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগে বিদ্ধ যুযুধান দুই শিবির।
তৃণমূলের দাবি, মঙ্গলবার ভোরে কর্মীরা এলাকায় গিয়ে দেখেন, প্রার্থীর সমর্থনে টাঙানো একাধিক ব্যানার উধাও। দলের কর্মীদের অভিযোগ, রাতের অন্ধকারে পরিকল্পিতভাবে এই ‘নাশকতা’ চালানো হয়েছে। তাঁদের আঙুল সরাসরি বিরোধী শিবিরের দিকে। ঘাসফুল শিবিরের এক নেতার কথায়, “ভোটের ময়দানে রাজনৈতিকভাবে পেরে না উঠে এখন চুরির রাজনীতি শুরু করেছে বিরোধীরা। কবি দত্তের জনপ্রিয়তায় ভয় পেয়েই এই কাজ।” দলের উচ্চ নেতৃত্বকে বিষয়টি জানানো হয়েছে এবং প্রয়োজনে পুলিশি হস্তক্ষেপের পথে হাঁটার হুঁশিয়ারিও দিয়েছে স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব।
যদিও এই অভিযোগ উড়িয়ে দিতে বিন্দুমাত্র সময় নষ্ট করেনি গেরুয়া শিবির। বিজেপির পাল্টা দাবি, এটি আদতে তৃণমূলের ‘সাজানো নাটক’। জনসমর্থন হারানোর ভয়ে ভোটারদের সহানুভূতি কুড়োতে শাসকদলই নিজেদের ব্যানার সরিয়ে বিরোধীদের ওপর দায় চাপাচ্ছে। বিজেপির এক স্থানীয় নেতার খোঁচা, “আমাদের কাজ মানুষের পাশে থাকা, ব্যানার ছেঁড়া বা সরানো নয়। হার নিশ্চিত বুঝেই এসব নাটকের অবতারণা।”
কাইজার গলি এলাকায় এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আপাতত চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের মতে, ভোটের আগে এই ধরণের ‘ব্যানার-যুদ্ধ’ নতুন নয়। তবে প্রকৃতই এটি বিরোধীদের কাজ নাকি অভ্যন্তরীণ কোনও রসায়ন, তা খতিয়ে দেখছে প্রশাসন। আপাতত উধাও হওয়া ব্যানারের জায়গায় নতুন ব্যানার পড়লেও, ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের রাজনীতির জল কোন দিকে গড়ায়, সেদিকেই নজর আসানসোল-দুর্গাপুরের রাজনৈতিক মহলের।