নিজস্ব সংবাদদাতা, পাণ্ডবেশ্বর: যুদ্ধের বাদ্যি বেজে গিয়েছে। একদিকে ‘পাণ্ডব’ তৃণমূল, অন্যপ্রান্তে ‘কৌরব’ বিজেপি। বৃহস্পতিবার পশ্চিম বর্ধমানের পাণ্ডবেশ্বর থেকে এ ভাবেই আসন্ন নির্বাচনী মহাযুদ্ধের সুর বেঁধে দিলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর নিশানায় ছিল মূলত গেরুয়া শিবির। এদিন রীতিমতো চড়া সুরে মমতা প্রশ্ন তোলেন, “এখনও কেন তালিকা বের করতে পারছে না কমিশন? বিজেপি যা খুশি করে বেড়াচ্ছে।”
পাণ্ডবেশ্বরের মাটি থেকে মহাভারতের উপমা টেনে মমতা এদিন সাফ জানান, আসন্ন লড়াই হবে পাণ্ডব আর কৌরবদের মধ্যে। তৃণমূলকে ‘পাণ্ডব’ এবং বিজেপিকে ‘কৌরব’ তকমা দিয়ে তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন, এই লড়াই ধর্মের সঙ্গে অধর্মের। নিজের সরকারের উন্নয়নের খতিয়ান তুলে ধরে নেত্রী বলেন, “পশ্চিম বর্ধমান জেলা গঠন থেকে আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেট, অন্ডাল বিমানবন্দর কিংবা কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়— সবটাই তৃণমূলের সময়ে হয়েছে।”
‘বিজেপির কথাতেই চলছে কমিশন’
এদিন ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়া (SIR প্রক্রিয়া) নিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছেন মমতা। তিনি বলেন, “বিজেপি আগে থেকেই বলেছিল ১ কোটি ২০ লক্ষ নাম বাদ যাবে। বাস্তবে সেটাই করছে কমিশন। এতেই প্রমাণিত বিজেপি আগে থেকে সব ঠিক করে রেখেছিল।” তৃণমূল নেত্রীর দাবি, তাঁর গণতান্ত্রিক সব ক্ষমতা কেড়ে নেওয়া হয়েছে। বিজেপিকে ‘ঝুট করে লুট’ তকমা দিয়ে নিজের সততা নিয়েও এদিন সওয়াল করেছেন তিনি। মমতা বলেন, “কারও পয়সায় এক কাপ চাও খাইনি, আমাকেও ওরা চোর বলছে!”
মোদী সরকারকে বিঁধে ‘দুয়ারে স্বাস্থ্য’
কেন্দ্রীয় সরকারকে আক্রমণ করতে গিয়ে রান্নার গ্যাসের দাম বৃদ্ধির প্রসঙ্গও টেনে আনেন তৃণমূল সুপ্রিমো। তিনি মনে করিয়ে দেন, “বিজেপি সরকারে আসার আগে গ্যাসের দাম ছিল ৪০০ টাকা, এখন তা ১১০০ টাকা ছাড়িয়েছে।” এই অগ্নিমূল্যের বাজারে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়াতে এদিন নতুন এক জনমোহিনী প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি। মমতা জানান, ক্ষমতায় ফিরলে ঘরের সামনে স্বাস্থ্য পরিষেবা পৌঁছে দিতে শুরু হবে ‘দুয়ারে স্বাস্থ্য’।