গণতন্ত্র রক্ষায় স্বচ্ছ ভোটার তালিকা চাই: পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে বড় নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের

সঙ্কেত ডেস্ক:পশ্চিমবঙ্গে চলমান বিশেষ নিবিড় ভোটার তালিকা সংশোধন (Special Intensive Revision) প্রক্রিয়া নিয়ে আজ এক ঐতিহাসিক নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন তিন বিচারপতির বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়েছে, এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত বিচার বিভাগীয় অফিসারদের কাজের সুবিধার্থে নির্বাচন কমিশন এবং রাজ্য সরকারকে সব ধরনের লজিস্টিক ও পরিকাঠামোগত সহায়তা প্রদান করতে হবে।
বিশেষ ‘অ্যাপেলিয়েট বডি’ গঠনের নির্দেশ
আদালত জানিয়েছে, ভোটার তালিকা সংশোধনের ক্ষেত্রে বিচার বিভাগীয় অফিসাররা যে সিদ্ধান্ত নেবেন, তার বিরুদ্ধে আপিল শোনার জন্য একটি পৃথক ‘অ্যাপেলিয়েট বডি’ বা আপিল কর্তৃপক্ষ গঠন করতে হবে। এই লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশনকে দ্রুত বিজ্ঞপ্তি জারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পাশাপাশি, কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতিকে ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে যে, তিনি প্রয়োজনে প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি বা হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিদের নিয়ে একটি বিশেষ বেঞ্চ গঠন করতে পারেন। এই বেঞ্চই ভোটার তালিকা সংক্রান্ত আপিলগুলি খতিয়ে দেখার দায়িত্ব পালন করবে।
১০ লক্ষেরও বেশি দাবি ও আপত্তি খতিয়ে দেখা হয়েছে
আদালত সূত্রে জানানো হয়েছে যে, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার আশঙ্কায় থাকা সাধারণ মানুষের পক্ষ থেকে জমা পড়া প্রায় ১০ লক্ষ ১৬ হাজারেরও বেশি দাবি ও আপত্তি ইতিমধ্যেই বিচার বিভাগীয় অফিসাররা অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে খতিয়ে দেখেছেন। এই বিপুল পরিমাণ কাজ সম্পন্ন করার জন্য বিচারকদের কাজের পরিবেশ ও প্রযুক্তিগত সুবিধা নিশ্চিত করা জরুরি বলে মনে করছে শীর্ষ আদালত।
প্রযুক্তিগত বিভ্রাট মেটানোর কড়া নির্দেশ
নির্বাচন কমিশনের পোর্টালে সাম্প্রতিক সময়ে যে প্রযুক্তিগত সমস্যা (Technical Glitch) দেখা দিচ্ছে, তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আদালত। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ:
* পোর্টালের সমস্ত কারিগরি ত্রুটি অবিলম্বে সমাধান করতে হবে।
* বিচার বিভাগীয় অফিসারদের জন্য দ্রুত নতুন লগ-ইন আইডি (Login ID) তৈরি করে দিতে হবে যাতে কাজে কোনো দেরি না হয়।
* কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির অনুমতি ছাড়া কমিশন এমন কোনো বাধ্যতামূলক পদক্ষেপ নিতে পারবে না, যা এই সংশোধন প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করতে পারে।
আদালতের পর্যবেক্ষণ: “ভোটার তালিকা সংশোধনের মতো গুরুত্বপূর্ণ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া যাতে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ, নির্ভুল এবং বাধাহীনভাবে সম্পন্ন হয়, তা নিশ্চিত করাই এই নির্দেশের মূল লক্ষ্য।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *