গদা-ধূপ আর জনসংযোগ: ডায়েরি হাতে পাণ্ডবেশ্বরের অলিতে-গলিতে নরেন্দ্রনাথ

নিজস্ব সংবাদদাতা, পাণ্ডবেশ্বর: কয়লাখনি এলাকার রুক্ষ লাল মাটির উত্তাপ ছাপিয়ে আজ সেখানে শুধুই জনস্রোতের আবেগ। কুসুমের গন্ধ আর ধূপের ধোঁয়ায় পাণ্ডবেশ্বরের রাজনৈতিক লড়াইয়ের সূচনা হল এক অন্য মেজাজে। বৃহস্পতিবার সকালে শ্যামসুন্দরপুর ঝরিয়া ডাঙাল বজরংবলি মন্দিরে পুজো দিয়ে ২০২৬-এর নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়ার সংকল্প নিলেন বিদায়ী বিধায়ক তথা তৃণমূল প্রার্থী নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী। আধ্যাত্মিকতা আর জনসংযোগ— দুইয়ের যুগলবন্দিতে এ দিন প্রচারের সুর বেঁধে দিলেন পাণ্ডবেশ্বরের ‘ভূমিপুত্র’।
ভোটের নির্ঘণ্ট বেজে যাওয়ার পর থেকেই ঘাসফুল শিবিরের তৎপরতা তুঙ্গে। এদিন সকালে মন্দিরে ভক্তিভরে আরতি সেরে নরেন্দ্রনাথবাবু যখন পথে বেরোলেন, তখন রোদের তেজ বাড়তে শুরু করেছে। কিন্তু সেই রোদ উপেক্ষা করেই পাণ্ডবেশ্বরের কুমারডিহি, নবগ্রাম আর জোয়ালভাঙা গ্রামে তৈরি হল জনজোয়ার। প্রার্থীর সাদা পাঞ্জাবি আর গলার উত্তরীয় ঘিরে চলল অকাল ‘আবির খেলা’।
মন্দির থেকে বেরিয়েই ঘরে ঘরে পৌঁছে যান নরেন্দ্রনাথ। কোনও বাড়ির উঠোনে বসে বয়স্কদের আশীর্বাদ নিলেন, কোথাও আবার যুবকদের পিঠ চাপড়ে দিলেন। কুমারডিহি গ্রামে এক বৃদ্ধার দু’হাত ধরে যখন তাঁর কুশল সংবাদ নিচ্ছিলেন প্রার্থী, তখন আশপাশের ভিড় থেকে ভেসে এল একটাই কথা— “বিধায়ক তো নয়, আমাদের ঘরের ছেলে এল।”
প্রচারের ফাঁকেই পাণ্ডবেশ্বরের মানুষের অভাব-অভিযোগ নিজের ডায়েরিতে টুকে নিলেন তিনি। নরেন্দ্রনাথবাবুর সপাট কথা, “মানুষের ভালোবাসা আর বিশ্বাসই আমাদের লড়াইয়ের আসল জ্বালানি। গত কয়েক বছরে মানুষের পাশে থেকে কাজ করার চেষ্টা করেছি। উন্নয়নের সেই ধারা অক্ষুণ্ণ রাখতেই ফের আশীর্বাদ চাইছি।”
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, পাণ্ডবেশ্বরের মতো এলাকায় জাতিগত সমীকরণ আর খনি শ্রমিকদের আবেগ বড় ফ্যাক্টর। সেখানে প্রচারের শুরুতেই মন্দিরে পুজো দিয়ে হিন্দু ভোটের মেরুকরণ রুখতে যেমন বার্তা দিলেন নরেন্দ্রনাথ, তেমনই ‘ভূমিপুত্র’ তাস খেলে নিজের মাটি কামড়ে লড়াইয়ের সংকল্পও স্পষ্ট করে দিলেন।
কুমারডিহি থেকে জোয়ালভাঙা— দীর্ঘ পথ অতিক্রম করার সময় প্রার্থীর চোখেমুখে ক্লান্তির ছাপ ছিল না। বরং সাধারণ মানুষের সাথে হাত মেলানো আর কুশল বিনিময়ের সময় দেখা গেল সেই চেনা আত্মবিশ্বাস। পঁচিশের চৈত্র শেষে বৈশাখের নতুন খাতার মতোই পাণ্ডবেশ্বরের উন্নয়নের খতিয়ান নিয়ে ভোটারদের দরজায় কড়া নাড়লেন নরেন্দ্রনাথ। শেষ পর্যন্ত এই আবেগ আর আশীর্বাদ ইভিএমে কতটা প্রতিফলিত হয়, এখন সেটাই দেখার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *