গ্ল্যামারাস উদ্বোধনের আড়ালে কি শুধুই প্রচার? দুর্গাপুরে ‘শিশুসাথী পার্ক’ নিয়ে উঠছে একগুচ্ছ প্রশ্ন

নিজস্ব প্রতিনিধি, দুর্গাপুর: প্রায় পাঁচ দশক আগে, ১৯৭৭ সালে বাম আমলে দুর্গাপুরের ‘ডিয়ার পার্ক’-এর যাত্রা শুরু হয়েছিল। কিন্তু গত কয়েক দশকে প্রশাসনের চরম উদাসীনতায় সেই পার্ক কার্যত জঙ্গলে পরিণত হয়। বর্তমানে আসানসোল দুর্গাপুর উন্নয়ন পর্ষদ (ADDA) সেই পরিত্যক্ত পরিকাঠামোকে নতুন রূপ দিয়ে ‘শিশুসাথী পার্ক’ হিসেবে উদ্বোধন করল ঠিকই, কিন্তু এই ‘ভোলবদল’ নিয়ে স্থানীয় মহলে দানা বাঁধছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।শহরবাসীর বড় অংশের অভিযোগ, ১৯৭৭ সাল থেকে ২০২৬ সাল—এই দীর্ঘ সময়ে কেন পার্কটি ধুঁকছিল? এতদিন কেন টনক নড়ল না প্রশাসনের? এখন ধুমধাম করে উদ্বোধন হলেও, আগামী দিনে এই ‘ফাউন্টেন’ বা ‘দোলনা’গুলো সচল থাকবে তো? কারণ, দুর্গাপুরে এর আগেও একাধিক ছোট পার্ক রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ফের জীর্ণ অবস্থায় ফিরে গেছে।
পার্কটি সাজাতে দুর্গাপুরের একটি বেসরকারি রড প্রস্তুতকারী সংস্থার সহযোগিতা নেওয়া হয়েছে। সমালোচকদের প্রশ্ন, সরকারি উন্নয়ন পর্ষদ (ADDA) কি নিজের তহবিলে একটি সাধারণ পার্ক চালানোর ক্ষমতা রাখে না? পার্কের দেখভালের ভার যদি ভবিষ্যতে বেসরকারি হাতে চলে যায়, তবে সাধারণ ঘরের শিশুদের জন্য প্রবেশের খরচ সাধ্যের মধ্যে থাকবে কি না, তা নিয়েও তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা।

একদিকে যখন শহরের বহু রাস্তা বেহাল, নিকাশি ব্যবস্থা নিয়ে জনমনে ক্ষোভ আছে, তখন ‘সিঙ্গাপুরের আদলে ফাউন্টেন’ বা ঝরনা তৈরি করা কি খুব জরুরি ছিল? বিলাসিতার চেয়ে নাগরিক পরিষেবা কি আগে হওয়া উচিত ছিল না? মন্ত্রীর হাত ধরে ঘটা করে ফাউন্টেন উদ্বোধনকে নিছক ‘আইওয়াশ’ বা প্রচারের চমক হিসেবেই দেখছেন বিরোধীদের একাংশ।গাছগাছালি লাগিয়ে সবুজায়নের কথা বলা হলেও, আধুনিকীকরণের নামে কতগুলো পুরনো গাছ কাটা হয়েছে বা সিমেন্টের চাদরে কতটা মাটি ঢাকা পড়েছে, সেই হিসেব অধরাই থেকে গেছে। পরিবেশপ্রেমীদের মতে, পার্ক মানেই কেবল কৃত্রিম আলো আর কংক্রিটের বসার জায়গা নয়, প্রকৃত প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা করাই আসল চ্যালেঞ্জ।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মন্ত্রী প্রদীপ মজুমদার বা সাংসদ কীর্তি আজাদদের উপস্থিতি এই প্রকল্পকে রাজনৈতিকভাবে গুরুত্ব দিলেও, সাধারণ মানুষের কাছে এটি কতটা দীর্ঘস্থায়ী আনন্দ দেবে, তা সময়ই বলবে। চকচকে ফাউন্টেন যেন শেষ পর্যন্ত সংস্কারের অভাবে ফের দুর্গাপুরের কোনো পরিত্যক্ত কঙ্কালে পরিণত না হয়, এটাই এখন বড় আশঙ্কা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *