নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা: ক্যালেন্ডারের পাতায় চৈত্র শেষ হতে না হতেই বাংলার রাজনৈতিক পারদ এখন টগবগে ফুটছে। ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের মহাযুদ্ধে নবান্ন দখলের লক্ষ্যে এবার সরাসরি রণক্ষেত্রে অবতীর্ণ হচ্ছেন খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। লক্ষ্য একটাই— ঘাসফুল শিবিরকে ঘরের মাঠে কোণঠাসা করা। বিজেপি সূত্রে খবর, এপ্রিলের তপ্ত রোদে প্রচারের উত্তাপ বাড়াতে রাজ্যে অন্তত ১০ থেকে ১২টি জনসভা ও রোড শো করতে পারেন প্রধানমন্ত্রী। আর সেই তালিকায় সবচেয়ে বড় চমক হতে চলেছে খোদ মুখ্যমন্ত্রীর গড় বলে পরিচিত ভবানীপুরের রোড শো।
মোদীর নিশানায় ভবানীপুর?
বিজেপি শিবিরের অন্দরমহল বলছে, রামনবমীর পুণ্যতিথি পেরোলেই রাজ্যে গেরুয়া ঝড়ের গতিবেগ বাড়াবে দিল্লি। প্রধানমন্ত্রীর সফরের ব্লু-প্রিন্ট প্রায় তৈরি। কলকাতায় একটি মেগা রোড শো করার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর, যার কেন্দ্রবিন্দু হতে পারে ভবানীপুর। তবে সেই মিছিল ভবানীপুর থেকে শুরু হবে নাকি সেখানে গিয়ে শেষ হবে, তা নিয়ে এখনও চূড়ান্ত সিলমোহর পড়েনি। এক শীর্ষ নেতার কথায়, “প্রধানমন্ত্রী নিজে ময়দানে নামলে লড়াইয়ের মেজাজটাই বদলে যায়।”
শুধু মোদী নন, অমিত শাহও কোমর বেঁধে নামছেন বঙ্গজয়ে। রাজ্যে তাঁর অন্তত ১২ থেকে ১৪টি নির্বাচনী কর্মসূচি থাকার কথা। সঙ্গে থাকছেন বিজেপির বিদায়ী সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডা এবং নবনিযুক্ত কেন্দ্রীয় সভাপতি নীতিন নবীন। হিন্দুত্বের তাস খেলতে উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথকেও আনা হচ্ছে বাংলার মাটিতে। অন্তত ৮টি জনসভায় গর্জন করতে দেখা যেতে পারে তাঁকে। আগামী ২৪ ও ২৫ মার্চ কলকাতায় এসে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি খতিয়ে দেখবেন নীতিন নবীন।
এবারের লড়াইয়ে দিল্লির পাশাপাশি ‘ঘরের ছেলে’দেরও সামনের সারিতে রাখছে বিজেপি। কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব চাইছে না বঙ্গ-বিজেপির মুখেরা আড়ালে থাকুন। তাই রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য এবং সুকান্ত মজুমদারকে মোদী-শাহের সমান্তরালে প্রচারের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। নন্দীগ্রামের লড়াকু মুখ শুভেন্দু অধিকারী এবং খড়গপুরের দিলীপ ঘোষও ‘স্টার ক্যাম্পেনার’ হিসেবে চষে বেড়াবেন উত্তর থেকে দক্ষিণ। সঙ্গে থাকছেন সদ্য রাজ্যসভায় যাওয়া রাহুল সিনহা। আর তুরুপের তাস হিসেবে থাকছেন ‘মহাগুরু’ মিঠুন ।
বিজেপির রণকৌশলে এবার কেবল বড় জনসভাই নয়, জোর দেওয়া হচ্ছে ছোট ছোট কর্নার মিটিং এবং বাড়ি বাড়ি প্রচারে। লক্ষ্য— নিচুতলার মানুষের ক্ষোভকে সরাসরি ব্যালট বক্সে টেনে আনা। রাজনৈতিক মহলের মতে, একদিকে মোদীর ম্যাজিক আর অন্যদিকে শুভেন্দু-দিলীপদের সাংগঠনিক লড়াই— এই দ্বিফলা আক্রমণে তৃণমূলকে ব্যতিব্যস্ত রাখাই এখন পদ্ম শিবিরের মূল উপজীব্য।
তৃণমূলের দাপট রুখতে দিল্লির এই ‘মহা-আক্রমণ’ শেষ পর্যন্ত কতখানি সফল হয়, তার উত্তর দেবে মে মাসের নির্বাচনী ফলাফল। তবে আপাতত মোদী-শাহের আগমনে বাংলার আকাশ-বাতাস যে তপ্ত হতে চলেছে, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।